স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২১ মার্চ : বন্দুকের নল উঁচিয়ে শুনসান এলাকায় জোত জমি জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ দেশ রক্ষার দায়িত্ব থাকা সেনাদের বিরুদ্ধে এক জমির মালিকের। আগরতলা শহরতলি দেবেন্দ্র চন্দ্র নগর বজ্য প্রক্রিয়াকরণ সংলগ্ন এলাকায় সুজিত দেব নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি জবর দখলে উঠে পড়ে লেগেছে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। শত শত সেনা দিয়ে ঘেরাও করে জমির পিলার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ সুজিত দেবের।
সুজিত দেব জানান, দীর্ঘ ১০ বছর আগে তার স্ত্রী সোমা ধর দেবের নামে জোত ৯.৮২ একর জমির ক্রয় করেছিলেন। এতদিন সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। নির্বাচনে আগে তিনি জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সমতল করে পিলার বসান। তারপর সেনাবাহিনীর জওয়ানরা সেই জমির পিলার ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। সুজিত দেব দাবি করেন তার জমির সীমানার পর রয়েছে সরকারি রাস্তা। রাস্তার অপর প্রান্তে রয়েছে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের জমি। গত নির্বাচনের আগ থেকে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা সুজিত দেবকে চাপ সৃষ্টি করেন এই জমিটি মধ্যে তাদের এক একর জায়গা রয়েছে।
সুজিত দেবের বক্তব্য সরকারি রাস্তা ডিঙিয়ে কিভাবে রাস্তার এ প্রান্তে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের জমি হবে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জমির জবর দখলের চেষ্টা করছে জওয়ানরা। যদি সেনাবাহিনীর জমি রাস্তায় এপাশে আসে তাহলে আগে রাস্তা হস্তক্ষেপ করতে হবে জওয়ানদের। এ বিষয়ে ক্যাম্পের আধিকারিকদের সাথে আলোচনা করেছেন সুজিত দেব। কিন্তু মানতে নারাজ সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। জমির মালিক মোহনপুর মহকুমা শাসক অফিসে গিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানালে দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়ে দেন তার জমি সঠিক রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে সেনারা জমিটি জবর দখল করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে শুনশান এলাকায় তিনি ছুটে আসেন। তিন গাড়ি সেনা দিয়ে জমি ঘেরাও করে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত জমির মালিক সুজিত দেব বিষয়টি মোহনপুর মহকুমা শাসক অফিসে জানান। আশ্বস্ত করা হয় লেফুঙ্গা থানার পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা অতিক্রান্ত হয়ে গেল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে নি। ফলে তিনি সংবাদ মাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে এই বিস্তারিত ঘটনার জানান। তখনও জওয়ানরা সুজিত দেবের ১৫ কানি জোত জমিতে বন্দুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তিনি জানান এই জমিতে কারখানা তৈরি করার জন্য তিনি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তারই মধ্যে জওয়ানদের জবর দখলে পরে তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার অতিষ্ট হয়ে তিনি আরো বলেন আগামী বুধবার আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান