Wednesday, February 8, 2023
বাড়িরাজ্যসংযুক্ত কৃষাণ মোর্চার রাজভবন অভিযান

সংযুক্ত কৃষাণ মোর্চার রাজভবন অভিযান

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৬ নভেম্বর : ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আট দফা দাবি নিয়ে সংযুক্ত কিষান মোর্চা রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে শনিবার রাজভবন অভিযান সংঘটিত করা হয়। এদিন মিছিলটি রাজধানীর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে।

মিছিলের অগ্রভাগে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত কৃষাণ মোর্চার রাজ্য আহ্বায়ক পবিত্র কর, সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি অঘোর দেববর্মা, ভানু লাল সাহা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিন মিছিলে উপস্থিত সংগঠনের আহ্বায়ক পবিত্র কর বলেন, ২০২০ সালে ২৬ নভেম্বর দিল্লির পাঁচটি প্রান্ত থেকে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার, ফসলের ন্যায্য মূল্য প্রদান করা সহ একাধিক দাবিতে এক বছর লড়াই চলে। কারণ নরেন্দ্র মোদি সরকার তিনটি কালো কৃষি আইন জবরদস্তি করে পার্লামেন্টে পাস করে নেয়। তারপর কৃষি আইন প্রত্যাহারের জন্য দিল্লিতে আন্দোলন শুরু হয় কৃষকদের। একাধিকবার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে কৃষকরা আলোচনা করে সমাধানের সূত্র বের হয়নি। কিন্তু কৃষকরা তাদের দাবি দেওয়া থেকে পিছু হাটেনি। কৃষকরা তাদের দাবিতে অনড় দেখে নরেন্দ্র মোদীর সরকার শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতে বাধ্য হয়। পার্লামেন্টে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু কৃষকদের ফসলের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের জন্য আইন পাশ হয়নি। কিন্তু এই সরকারের এ ধরনের অমানবিকতার কারণে বহু কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

কিন্তু সরকারের লিখিত অনুযায়ী ফসলের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আইন এখনো পাশ হয়নি। তাই এই অপূর্ণ দাবিটি নিয়ে পুনরায় সরব হয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে রাজ্যপাল মারফত দাবি সনদ পাঠানো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেহেতু ২৬ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালে দিল্লিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তাই এই দিনটি বেছে নিয়েছে সংযুক্ত কৃষাণ মোর্চা। আগামী পার্লামেন্ট অধিবেশনের আগে যদি এই দাবি পূরণ করা উদ্যোগ নেওয়া না হয় তাহলে পুনরায় দিল্লিতে আন্দোলন সংঘটিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষকরা বলে জানান তিনি। কিন্তু মিছিলিটি রাজধানীর গোর্খাবস্তি এলাকায় আসার পর ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে রাস্তা অবরোধ করে সংযুক্তি কৃষান মোর্চার কর্মী সমর্থকরা। উপস্থিত সিপিআইম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র দেববর্মা এবং সারা ভারত কৃষক সভা রাজ্য কমিটির সভাপতি অঘোর দেববর্মা বক্তব্য রেখে বলেন এ সরকার দেশের কৃষকদের সাথে এ সরকার প্রতারণা করেছে। যতদিন না পর্যন্ত এই দাবি পূরণ হবে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আরো বলেন সারা দেশের মতো ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষকদের সাথে প্রতারণা হচ্ছে। কৃষকদের জল সেচের ব্যবস্থা নেই, বীজ নেই। ফসল উৎপাদন করতে পারছে না কৃষক বলে রাজ্য সরকারেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য