Saturday, September 19, 2026
বাড়ি রাজ্য বটতলা হাওড়া নদীর তীরে অবস্থিত পার্কে নেশার আসর, সঙ্গে দূষিত পরিবেশ

বটতলা হাওড়া নদীর তীরে অবস্থিত পার্কে নেশার আসর, সঙ্গে দূষিত পরিবেশ

বটতলা হাওড়া নদীর তীরে অবস্থিত পার্কে নেশার আসর, সঙ্গে দূষিত পরিবেশ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ সেপ্টেম্বর: জনগণের অর্থ আদ্ধশ্রাদ্ধ করে নবনির্মিত পার্কে চলছে নেশার আসর। এই দৃশ্য বটতলা হাওড়া নদীর তীরে অবস্থিত পার্কে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্পের আওতায় সাজানো হয়েছে আগরতলার বটতলা এলাকার পার্ক। উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে সেই পার্কের চিত্রই যেন উল্টো কথা বলছে। অভিযোগ, পার্কের ভিতরে চলছে নেশার আসর, আর চারপাশে জমছে মাছ বাজারের আবর্জনা। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বিষিয়ে উঠেছে পার্কের পরিবেশ। প্রশ্ন উঠছে—স্মার্ট সিটির সৌন্দর্যায়ন হলেও নাগরিক নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কি আদৌ স্মার্ট হয়েছে? আগরতলার বটতলা ব্যস্ত মাছ বাজারের পাশেই কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের আওতাধীন এই পার্ক। কিন্তু বর্তমানে পার্কের আশপাশের পরিবেশ দেখলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই কি সেই স্বপ্নের স্মার্ট সিটি?

পার্কের দেওয়াল ঘেঁষে পড়ে রয়েছে মাছ বাজারের আবর্জনা। দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষ। শুধু পার্কের বাইরেই নয়, অভিযোগ উঠছে পার্কের ভিতরের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে আবর্জনা, মদের খালি বোতল সহ নানা সামগ্রী। অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার আগেই এই পার্কেই বসছে নেশার আসর। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিবার নিয়ে পার্কে আসতে অনেকেই অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে পার্কের সামনের রাস্তা ও মাছ বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে। অভিযোগ, পুর নিগমের আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকলেও তার আশপাশেই রাস্তা ও পার্কের দেওয়াল ঘেঁষে ফেলে রাখা হচ্ছে মাছ বাজারের বর্জ্য। ফলে একদিকে দুর্গন্ধ, অন্যদিকে নোংরা পরিবেশ—সব মিলিয়ে বটতলা স্মার্ট সিটি পার্ক এখন যেন সৌন্দর্যায়নের বদলে অব্যবস্থাপনার ছবি তুলে ধরছে। জনসাধারণের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছিল এই পার্ক। কিন্তু বর্তমানে পার্কের ভিতরে নেশার আসর বসার অভিযোগ, বাইরে মাছ বাজারের বর্জ্য এবং চারপাশে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এই পার্কের প্রকৃত সুবিধা পাচ্ছেন কারা? প্রশ্ন উঠছে পুলিশ, পুর নিগম এবং স্মার্ট সিটি কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়েও। পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে এই অব্যবস্থার দায় নেবে কে? স্মার্ট সিটির নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে পার্ক তৈরি করলেই কি দায়িত্ব শেষ? নাকি সেই পরিকাঠামোকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, নিরাপদ রাখা এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য করে রাখাও প্রশাসনের দায়িত্ব?

 

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha