স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৪ সেপ্টেম্বর : কমলপুর
মহকুমার অন্তর্গত কচুছড়া থানার কবিরাজ টিলা এলাকায় সালেমা কলোনি নং-২ অঙ্গনওয়াড়ি
কেন্দ্রে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে চোরের দল দুটি গ্যাস
সিলিন্ডার, একটি ইনভার্টার এবং সোলার ব্যবস্থার তার নিয়ে চম্পট দিয়েছে। সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এসে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী দরজার তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
পরে ভিতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে চুরি হয়েছে বলে বুঝতে পারেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মানুষজনকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি কচুছড়া থানার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পঞ্চায়েতের প্রধান সহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরবর্তী সময় কচুছড়া থানার পুলিশও সেখানে এসে ভাঙা তালা ও কেন্দ্রের ভিতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। তবে ঠিক কখন এবং কীভাবে চোরেরা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রবেশ করল এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কচুছড়া থানার পুলিশ। এদিকে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দিদিমণির দাবি, চুরির ঘটনা ঘটার আগেও বেশ কিছুদিন ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের তালা নিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কখনও তালা নড়চড় অবস্থায়, আবার কখনও তালা বাঁকানো অবস্থায় দেখা যেত বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের আশপাশে বিভিন্ন ধরনের আসর বসে।
তাদের
আশঙ্কা, এই সুযোগকেই কাজে
লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটিকে নিশানা করে থাকতে পারে। যদিও সন্ধ্যার পর কারা সেখানে
আড্ডা দেয় এবং তাদের সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত
নয়। অন্যদিকে চুরির ঘটনার সঙ্গে সামনে এসেছে কেন্দ্রটির দীর্ঘদিনের নানা সমস্যাও। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে
কোনও সহযোগী নেই। ফলে একাই শিশুদের দেখাশোনা, পড়াশোনা এবং কেন্দ্রের অন্যান্য কাজ সামলাতে হচ্ছে তাকে। এর পাশাপাশি পানীয়
জলের সমস্যাও রয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রে জলের ব্যবস্থা থাকলেও সেই জল ব্যবহার নিয়ে
সমস্যা থাকায় শিশুদের বাড়ি থেকে বোতলে করে জল নিয়ে আসতে
হয় বলে অভিযোগ। ফলে একদিকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে কর্মীর ঘাটতি ও পানীয় জলের
সমস্যা—সব মিলিয়ে সালেমা
কলোনি নং-২ অঙ্গনওয়াড়ি
কেন্দ্রের পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে
নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সন্ধ্যার পর কেন্দ্রের আশপাশে
নজরদারি বাড়াতে হবে। ঘটনার তদন্তে কচুছড়া থানার পুলিশ।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান