Saturday, September 19, 2026
বাড়ি রাজ্য ৩০ বছর পর জমি নিয়ে মামলা, বিপাকে পরিবার

৩০ বছর পর জমি নিয়ে মামলা, বিপাকে পরিবার

৩০ বছর পর জমি নিয়ে মামলা, বিপাকে পরিবার

 



মোহনপুর (ত্রিপুরা), ১২ সেপ্টেম্বর (হি..) : প্রায় তিন দশক আগে বোনের বিয়ের সময় জমি কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেই জমির মালিকানার কাগজপত্র আজও হাতে পাননি বলে অভিযোগ। দীর্ঘ ৩০ বছর পর হঠাৎ তহশিলের কর্মীরা বাড়িতে আসার পর জানতে পারেন, ওই জমি নিয়েই মামলা হয়েছে। ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মোহনপুর মহকুমার বামুটিয়া তহশিল কাছারির অন্তর্গত রাঙ্গুটিয়া গ্রামের বেড়িমুড়া পালপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত অবিনাশ দাস কর্ণমণি দাসের পরিবারের দাবি, প্রায় ৩০ বছর আগে, ১৯৯৭ সালে একই এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত অধীর গোস্বামী ওরফে নারায়ণ গোস্বামী এবং শংকর গোস্বামীদের কাছ থেকে তাঁরা প্রায় এক কানি জমি ক্রয় করেছিলেন। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের বোনের বিয়ের সময় ওই জমি কেনা হয়েছিল। জমি কেনার পর থেকে তাঁরা সেখানে বসবাস ভোগদখল করে আসছেন বলেও দাবি পরিবারের।

তবে অভিযোগ, জমি কেনার পর একাধিকবার কাগজপত্র করে দেওয়ার জন্য অধীর গোস্বামী তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে অনুরোধ করা হলেও প্রতিবারই কাগজপত্র করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জমির বৈধ কাগজপত্র তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

এরই মধ্যে প্রয়াত হয়েছেন অধীর গোস্বামী। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে বিষয়টি এভাবেই চলার পর হঠাৎ গতকাল তহশিল অফিসের লোকজন তাঁদের বাড়িতে আসেন। তখনই তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে শংকর গোস্বামী মামলা করেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অবিনাশ দাস কর্ণমণি দাসের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, এত বছর ধরে জমিটি তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন এবং জমি কেনার সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অর্থও প্রদান করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন ধরে কাগজপত্র করে দেওয়ার জন্য বলা হলেও তাঁদের বিষয়টি নিয়ে ঘোরানো হয়েছে।

অন্যদিকে, শংকর গোস্বামীর মুহুরির বিরুদ্ধে তহশিলের কর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টারও অভিযোগ তুলেছে অবিনাশ দাস কর্ণমণি দাসের পরিবার।

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, প্রায় ৩০ বছর পর আচমকা জমি নিয়ে মামলা এবং তহশিলের লোকজনের বাড়িতে আসার ঘটনায় তাঁরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁদের একমাত্র দাবি, সমস্ত নথিপত্র পুরনো লেনদেন খতিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করা হোক এবং দীর্ঘদিনের এই জমি-সংক্রান্ত সমস্যার একটি সুষ্ঠু ন্যায়সঙ্গত সমাধান করা হোক।

তাঁরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা দীর্ঘদিনের ভোগদখলের বিষয়টি যাচাই করা হোক। পাশাপাশি, জমি নিয়ে কোনও পক্ষ যাতে প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেদিকেও নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha