স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ সেপ্টেম্বর : ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে তফসিলি জাতির প্রার্থীদের নির্বাচিত তালিকা প্রকাশের বিষয়ে ত্রিপুরা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তালিকা প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট মহল ও স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত WPC No. 734/2024, শ্রীকৃষ্ণ দাসের দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে। গত ২০ আগস্ট ২০২৬ মামলাটি নিষ্পত্তি করার সময় বিচারপতি এস. ডি. পুরকায়স্থ ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের নির্দেশ দেন, আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদের তফসিলি জাতির প্রার্থীদের নির্বাচিত তালিকা প্রকাশ করতে। আদালতের আদেশের কার্যকরী অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “The respondent nos.1 to 3, 6 and 7 are directed to publish the select list of SC candidates for said post of Deputy Registrar within one week of receipt of copy of this order.”»
মামলাটি মূলত সাধারণ ক্যাটাগরির ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে ড. মুনীন্দ্র মিশ্রের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা হয়েছিল। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ড. মিশ্র ওই পদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা পূরণ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ ক্যাটাগরির শ্রেণির ওই পদের সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণের জন্য তাঁকে কল লেটার দেওয়া হয়নি বলেও আবেদনকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।অন্যদিকে, আবেদনকারীকে তফসিলি জাতির ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদের সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছিল এবং তিনি ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে উপস্থিতও হন। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সাক্ষাৎকারের ফলাফল বা নির্বাচিত তালিকা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল ১০ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত সাধারণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। বিজ্ঞপ্তিটির নম্বর ছিল Advertisement No. F. TU/REG/ADVT/NT/01/2023। ওই বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ ক্যাটাগরি এবং তফসিলি জাতি—দুই শ্রেণির জন্য ডেপুটি রেজিস্ট্রারের পদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে ৮ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে সাধারণ ক্যাটাগরির ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে ড. মুনীন্দ্র মিশ্রকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তফসিলি জাতির পদের সাক্ষাৎকারের ফলাফল প্রকাশের বিষয়টি অনিষ্পন্ন থেকে যায় বলে অভিযোগ। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে শুধু তফসিলি প্রার্থী নির্বাচিত তালিকা প্রকাশের বিষয়েই নির্দেশ দেওয়া হয়নি; আবেদনকারী তফসিলি প্রার্থী নির্বাচনে সফল না হলে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্যও আদালত একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আবেদনকারী যদি তফসিলি প্রার্থী নির্বাচিত তালিকায় স্থান না পান, তাহলে তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে সাধারণ ক্যাটাগরির কৌটা জন্য সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণের সুযোগ চাইতে পারবেন।
সেক্ষেত্রে
আবেদন করার তারিখ থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে হবে। এরপর সাক্ষাৎকারের দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন সাধারণ ক্যাটাগরির মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে।আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন
হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিদ্যমান নিয়োগ বাতিল করার বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে পারবে। এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তপশিলি প্রার্থী নির্বাচিত তালিকা প্রকাশ না হওয়া নিয়ে
বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, একটি প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাক্ষাৎকারের ফলাফল ও নির্বাচিত তালিকা
প্রকাশ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের মতে, সরকারি বা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশ করা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের স্বাভাবিক দায়িত্ব। কোনও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হওয়া নিজেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এখন মূল নজর ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে—হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী তফসিলি প্রার্থী ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদের নির্বাচিত তালিকা কবে প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তী
নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান