স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ সেপ্টেম্বর : সুশাসন জামানায় রাজ্যে
প্রশাসন অচল! যা আর বলার অপেক্ষা রাখলো না শনিবার। শত শত রোগী এবং বিমান যাত্রী গত
২৪ ঘন্টার অধিক সময় ধরে সাক্ষী হচ্ছেন অমানবিকতার। জঙ্গি কায়দায় বড়মুড়ায় চলছে
তাদের আন্দোলন। নামে শুধুমাত্র আত্মসমর্পণকারী। অভ্যাস প্রকৃত জঙ্গির। অথচ, নির্বিকার
সরকার। শিলচর থেকে অস্ত্রপ্রচারের পর রাজ্যে আসা ক্যাথিটার লাগানো একজন রোগীকে পর্যন্ত
গাড়ি থেকে নামিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখল তথাকথিত আত্মসমর্পণ কারীরা।
বারবার অসহায়
রোগী হাতজোড় করে জঙ্গিদের কাছে বলছিলেন আমাদের ছেড়ে দিন। অপারেশন শেষ করে বাড়ি ফিরছি।
কিন্তু আঙ্গুল তুলে জঙ্গিরা তাদের প্রকৃত পরিচয় বার বারে ফুটিয়ে তুলছিলেন। এই দৃশ্য
সংবাদ মাধ্যমে ক্যামেরায় ফুটে উঠেছে। শুধু তাই নয় এমন বহু রোগী গত দুদিন ধরে রাজ্যের
বিভিন্ন রেলস্টেশন, মোটর স্ট্যান্ড, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি সহ অবরোধ স্থলে আটকে আছেন।
তাদের একটাই প্রশ্ন কার পাপের শাস্তি আমাদের পেতে হচ্ছে? কোথায় সরকার কোথায় সুশাসন
এই প্রশ্ন এবং মুখোমুখে করতে শুরু করেছে। শনিবার এক রোগীর পরিবার জানান আমবাসায় হামসাফার
ট্রেন দাঁড়ানোর পর গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত আর এগোচ্ছে না। ট্রেনের ভেতর গিজগিজ করছে
যাত্রী। অস্বাভাবিক গরম এবং দুর্গন্ধ সুস্থ মানুষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম।
আগামী ২৪ ঘন্টায় এই ট্রেন ছাড়বে কিনা সন্দেহ রয়েছে। তাই গাড়ি রিজার্ভ করে বাড়ির
উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
গাড়ি দিয়ে
আমবাসা থেকে বড়মুড়া আসার পর তাদের আবার আটকে রাখা হয়েছে। রোগী দেখেও তাদের ছাড়া
হচ্ছে না। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন সহ যাবতীয় ঔষধপত্র এবং ট্রেনের টিকিট দেখানোর পরেও
তাদের পায়ে হেঁটে পর্যন্ত যেতে দিচ্ছে না পাষণ্ড আত্মসমর্পণকারীরা। কেউ কেউ প্রশাসনের
ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, ন্যূনতম খাবার এবং থাকার বন্দোবস্ত পর্যন্ত করেনি সরকার।
কোথায় সরকার? কোথায় প্রশাসন? যারা আন্দোলন করছে তাদেরই জামাই আদর করছে ডাবল ইঞ্জিনের
নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। অমানবিকতার নিদর্শন হয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিগত দিনের নগ্ন
আন্দোলনের চরমসীমা পর্যন্ত অতিক্রম করে ফেলেছে গত ২৪ ঘন্টায়। এদিকে এ বিষয় নিয়ে
বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, সমস্যা যেহেতু আত্মসমর্পণ কারীদের, তাই তারা আমরণ অনশন
করে নিজেদের দাবি আদায় করতে আওয়াজ তুলতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ, রোগী এবং যাত্রীদের
এভাবে দুর্ভোগ সৃষ্টি করার কোনো অর্থ হয় না। তীব্র নিন্দা করে বলেন প্রশাসন এত দুর্বল,
আন্দোলন ঘোষণার পর কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যার কারণে মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। তিনি সন্দেহ
প্রকাশ করে বলেন, ২০২৪ সালে যারা আত্মসমর্পণ করেছে তারা কতটা নিয়ম মেনে আত্মসমর্পণ
করেছে সেটা বড় প্রশ্ন। কারণ হাজার হাজার নাম লিপিবদ্ধ করে বেনিফিশিয়ারি তালিকায়
দেখালেই চলবে না। কেন্দ্র সরকারের কাছে সঠিক তথ্য থাকতে হবে। তাই কোথাও একটা সমস্যা
রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান