স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ জুলাই : সর্ষে ভূত! ডাকাতি নয়, দুই পাচারকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল বিশালগড় মোড়াবাড়ি এলাকায়। পুলিশ তদন্তে নেমে রাতে জঙ্গল থেকে প্রচুর ফেন্সিডিল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে থাকা কয়েকজন নেশা কারবারি পুলিশের আঁচ পেয়ে পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে নেশা পাচার, গরু পাচারে করিডোর হয়ে উঠেছে বিশালগড়। বিশালগড়ের একাধিক পাচারকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে আছে কলমছড়া ও বক্সনগরের একধিক পাচারকারী গ্রুপ। রাষ্ট্রবাদী দোহাই দিয়ে বারবারই তারা পার পেয়ে গেলেও এবার তাদের ঝামেলা জনসম্মুখে উঠে আসতেই পুলিশ বাধ্য হচ্ছে অভিযুক্তদের জালে তুলতে। নাহলে আইন-শৃঙ্খলা যে কতটা অবনতি হচ্ছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
গত রবিবার রাতের বেলা বিশালগড় মোড়াবাড়ি এলাকায় যে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছিল সেটা নিয়ে তদন্ত নেমে পুলিশের কাছে উঠে আসলো ভিন্ন তথ্য।জানা যায় পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে এটা অপহরণ নয়, বরং নিষিদ্ধ কফ সিরাপ বহনকারী একটি গাড়ি থেকে নেশা পণ্য লুটের ঘটনা ছিল এটি। এই সংক্রান্ত নানান তথ্য এমনকি ইতিমধ্যেই এই নেশা পণ্য লুঠের ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ও পেয়ে গেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের অদূরের একটি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর গোডাউনের সামনে থাকা একাধিক সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে কালো রঙের স্করপিও গাড়ি থেকে কফ সিরাপের কার্টুন নামিয়ে অন্য গাড়িতে লোডিং করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। সেই সিসি ফুটেজ থেকেই এই ঘটনার সাথে যুক্তদের অনেককেই চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত পাঁচ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হলো ঘনীয়ামারা এলাকার কুখ্যাত দুই কুখ্যাত পায়েল হুসেন ও সাগর মিয়া। এছাড়া ঝুটিন পোদ্মার, কবির হুসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন। ঘটনায় যুক্ত আরো কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ। এই লুট কাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি গাড়িও আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে পুলিশের কাছে ও মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেছে এটি গাড়ি আটকে মহিলাদের অপহরণ কিংবা স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনা নয়, বরং নেশা কারবারির গোষ্ঠি ও আঞ্চলিক বিবাদ। এই বিষয়টিকে অপহরণ ও স্বর্ণালঙ্কার লুঠের ঘটনা দাবি করে এক মহিলার থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে লুঠ কাণ্ড ধরা পড়া সিসি টিভি ফুটেজ সহ হার্ড ডিস্ক নিজেদের হেফাজতে নিলেও পুলিশ তা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি। এদিকে ঘটনার তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় আগরতলা থেকে বক্সনগরের উদ্দেশ্যে দুটি গাড়িতে নিষিদ্ধ কফ সিরাপ বোঝাই করে রওনা দেয়। এরমধ্যে একটি গাড়িতে ছিল বক্স নগর আশাবাড়ির হৃদয় হুসেন।
অপর নেশা সামগ্রী বুঝাই করা গাড়িতে ছিল পুঠিয়ার নেশা কারবারী জুয়েল মিয়ার বোন সহ আরেক মহিলা। নেশা পণ্য বোঝাই গাড়ি আসার খবর পায় বক্সনগরের অপর গোষ্ঠী। তারপর নেশা পাচার চক্র এই খবর পৌঁছে যায় বিশালগড় শহরের পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় একটি নেশা পাচারকারী চক্রের কাছে। তারপর তারা রাত প্রায় আড়াইটা নাগাদ বিশালগড়ের মুড়াবাড়ি–কড়ইমুড়া সড়কের প্রভুরামপুর এলাকায় পৌঁছালে তাদের গতিরোধ করতে আগে থেকেই সেখানে বোলেরো পিক আপ গাড়ি ও একাধিক বাইক নিয়ে উৎ পেতে থাকা লুটেরা চক্রটি। এর মধ্যে একটি গাড়ি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও কালো রঙের নম্বরবিহীন স্কর্পিও গাড়িটি আটকে ফেলে। অভিযোগ, ওই গাড়িতে থাকা ২৬ কার্টন নিষিদ্ধ কফ সিরাপ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সোমাইয়া নামে যে মহিলা থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছেন, তার বিরুদ্ধেও নেশা কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে বলে দাবি করছে। সোমবার রাতে অভিযানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা জানান, তারা গোপন খবরের ভিত্তিতে জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে চারটি কার্টুনে মোট ছয় শতাধিক এসকফ সিরাপ আটক করেছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক পাঁচ লক্ষাধিক টাকা হবে। পরিচালক জানিয়েছে এদিন অভিযান চালাতে এসে কয়েকজনকে লক্ষ্য করতে পেরেছেন। কিন্তু পুলিশের হাত থেকে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী জানিয়েছেন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত যাদের এখন পর্যন্ত জালে তোলা হয়েছে তাদের তিনদিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এখন দেখার বিষয় তদন্তে কি বের হয়ে আসে এবং যারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত তাদের সকলকে পুলিশ জালে তুলে কিনা।

