বাড়িরাজ্যমৃতদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ

মৃতদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ মে : বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু রুবেল মিয়া নামে এক যুবকের বলে অভিযোগ তুলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল কলমচৌড়া থানায়। মঙ্গলবার মৃতদেহ নিয়ে থানায় ঘেরাও করে প্রতিবাদে সামিল হয় এলাকাবাসী। অভিযোগ তুলে বিএসএফের বিরুদ্ধে। জানা যায়, গত ২০ মে গভীর রাতে আশাবাড়ি ও পশ্চিমপাড়া সীমান্তের ১৭৬-১৭৭ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় বিএসএফের গুলিতে গুরুতর জখম হন পশ্চিমপাড়ার যুবক রুবেল মিয়া। তার বাবার নাম নুরুল আমিন। দীর্ঘ ছয় দিন জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রুবেল মিয়া।

 এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার সহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, গত ২০ মে বুধবার বিকেলে রুবেল মিয়া বক্সনগর বিওসি সংলগ্ন একটি জিম সেন্টার থেকে বাড়ি ফিরে এশার নামাজ আদায়ের জন্য সীমান্ত লাগোয়া উত্তরপাড়া মসজিদে যাচ্ছিলেন। সেই সময় আশাবাড়ি বিওপির ৪৯ নং ব্যাটালিয়নের এক কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ান পাচারকারী সন্দেহে পিছন দিক থেকে পিএজি গান দিয়ে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। রাবার বুলেট সরাসরি রুবেল মিয়ার পিঠের নিচের অংশে আঘাত করে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার করতে থাকেন তিনি। স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রথমে তাঁকে বক্সনগর সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে রেফার করেন। পরিবারের দাবি, রাবার বুলেটের আঘাতে তাঁর পিঠে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ফুসফুসেও গুরুতর আঘাত লাগে। দীর্ঘ ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ছয় বছরের এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে মৃতদেহ বক্সনগরে নিয়ে আসা হলে এলাকায় ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ নিয়ে কলমচৌড়া থানার সামনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘটনার খবর পেয়ে আগেই থানায় উপস্থিত ছিলেন সোনামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শশীমোহন দেববর্মা। তিনি পরিবারকে আশ্বাস দেন, লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হবে। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আচরণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। বাড়ি থেকে বের হলেই তল্লাশি, মোবাইল চেকিং, এমনকি মারধরের মতো অভিযোগও প্রায়শই উঠছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

রুবেল মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তে বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে জনমনে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। পাচারকারীদের ধরতে ব্যর্থ হলেও কেন সাধারণ মানুষের প্রাণ ঝরছে গুলিতে — সেই প্রশ্ন এখন সীমান্তবাসীর মুখে মুখে। রুবেল মিয়ার অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও ক্ষোভ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য