বাড়িরাজ্যকাঁটাতারের বেড়া সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্রীয় দল আসছে ত্রিপুরায়

কাঁটাতারের বেড়া সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্রীয় দল আসছে ত্রিপুরায়

আগরতলা, ২১ মে (হি.স.) : ত্রিপুরা- বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল রাজ্য সফরে আসছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানান।

নরসিংগড়স্থিত কেটিডিএস পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে নবনিযুক্ত কনস্টেবলদের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্ত সুরক্ষার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতেই এই কেন্দ্রীয় দলটি ত্রিপুরা সফরে আসবে। তাঁরা মূলত রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তে বিদ্যমান কাঁটাতারের বেড়ার বর্তমান অবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবে।

উল্লেখ্য, ত্রিপুরার তিন দিকই বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত। রাজ্যের মোট আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার, যা দেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৮৩৪ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া বসানো সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক স্থানে পুরনো বেড়ার ক্ষয়ক্ষতি, কোথাও কোথাও বেড়া কেটে ফেলা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সীমান্ত সুরক্ষায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সমস্ত বিষয় বিস্তারিত তথ্য ও ছবিসহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই বিশেষ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কাঁটাতারের বেড়া ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা না গেলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপ বাড়তে পারে।”

এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত পথ ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা বাড়ছে। মায়ানমার থেকে অসম ও মিজোরামের সীমান্ত হয়ে অনেক সময় এই চোরাচালানের রুট তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই সীমান্ত সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত ও নজরদারির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

রাজ্য প্রশাসনের আশা, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের এই সফরের মাধ্যমে সীমান্ত পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হবে এবং দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য