স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ মে : গৃহবধূকে ভালোবাসার জালে ফাঁসিয়ে ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বহির্রাজ্যের এক নির্মাণ শ্রমিকের বিরুদ্ধে। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সহযোগিতায় গৃহবধূটিকে ব্যাঙ্গালোরের একটি নিষিদ্ধ পল্লী থেকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে অভিযুক্ত বহিঃরাজ্যের নির্মাণ শ্রমিককে শুক্রবার নতুন বাজার থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গৃহবধূর স্বামী উদয়পুর এগ্রিকালচার কোয়ার্টারে থাকাকালীন সময়ে গৃহবধূকে ফুসলিয়ে স্বামীর সহকর্মী নিজাম উদ্দিন প্রেমের জালে ফেলে জোর জবরদস্তি শারীরিক সুযোগ নেয়। পরবর্তী সময় সেই ছবি গৃহবধূ স্বামীকে দেখিয়ে গৃহবধূর পরিবারে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করে। তারপর গৃহবধূকে ফুসলিয়ে বিয়ে করার নাম করে অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন করিমগঞ্জ নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে গৃহবধু দেখতে পান যার সঙ্গে সুখের সংসার ফেলে পালিয়ে এসেছে তিনি নিজাম দাস নয়, নিজাম উদ্দিন। নিজামের দুই ছেলে এবং স্ত্রী রয়েছে। তারপর পুনরায় রাজ্যে নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে আবার উদয়পুর থেকে একটি গাড়ি দিয়ে অপহরণ করে গৃহবধূকে আগরতলা রেল স্টেশনে নিয়ে আসে অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন। আগরতলা রেল স্টেশনে এসে পুরনো ছবি এবং ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বলে তার সঙ্গে যেন নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর যায়। না হলে সব ছবি ও ভিডিও ইউটিউবে ভাইরাল করে দেবে। অবশেষে দিশাহীন হয়ে গৃহবধূ অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে ডিমাপুর যায়।
সেখান থেকে কয়েকদিন কাটিয়ে ব্যাঙ্গালোর নিয়ে সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ গৃহবধূর। পরবর্তী সময়ে গৃহবধূকে জানিয়ে দেয় তাকে নাকি সেখানে টেলারের মধ্যে কাজ দেওয়া হয়েছে। আসলে তাকে নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করে দেয় অভিযুক্ত নিজাম। বিষয়টি স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরে গৃহবধূ তার বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতা চায়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে অনুধাবন করে গৃহবধূর বান্ধবী ব্যাঙ্গালোর গেলে তাদের হাতে তুলে দেয়নি সেখানকার নিষিদ্ধ পল্লীর লোকজন। সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকা দাবি করেন গৃহবধূর বান্ধবীর কাছে নিষিদ্ধ পল্লীর লোকজন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সহযোগিতায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাজ্যে নিয়ে আসা হয়। তারপর অভিযুক্তকে উত্তম মধ্যম দিয়ে নতুন বাজার থানার পুলিশের হাতে তুলে দিতে গেলে থানার ওসি বলেন কেন তাকে মারধর করা হয়েছে? গৃহবধূর অভিযোগ শুনতে চাইছে না পুলিশ। তারপর হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মকর্তারা সংবাদ মাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

