স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ মে : স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল চিত্র জিবি হাসপাতালে। এই বাস্তব চিত্র শুধুমাত্র রোগী এবং রোগীর পরিবারের লোকজনেরা প্রত্যক্ষ করছে। অথচ, রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল হল জিবি। সাধারণ মানুষের করের পয়সায় মোটা অংকের মাইনে পাওয়া চিকিৎসকরা এক প্রকার ভাবে হাত পা ঝাড়া দিয়ে মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে চায় না। বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবার দিকে যেন মানুষের ঝুঁকি বাড়ে, অর্থাৎ তাদের বেসরকারি কামাই যেন মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হয় তার জন্য সরকার এবং হাসপাতালকে কালিমা লিপ্ত করতে কোন প্রকার সুযোগ হাতছাড়া করছে না হাসপাতালে কতিপয় তাবড় তাবড় চিকিৎসকরা।
এবার বিনা চিকিৎসায় জিবি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। ঘটনা শুক্রবার সকালে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার নাগাদ লেম্বুছড়া বাগবাড়ি এলাকার থেকে ভানু বৈরাগী নামে একজন রোগীকে জিবি হাসপাতালে আনা হয় সংকটাপন্ন অবস্থায়। জিবি হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীকে ছুয়ে পর্যন্ত দেখেননি। রোগীর পরিবার চিকিৎসকের কাছে দাবি করেছিলেন তাদের রোগীকে ভর্তি রাখার জন্য। চিকিৎসক জানিয়ে দেন রোগীর সুস্থ আছে। ভর্তির প্রয়োজন নেই।
১১ টার সময় ওয়ার্ডে ডাক্তার আসলে তখন তারা দেখবেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন রোগী। তখন রোগীর পরিবারের লোকজনের এক ট্রলিতে তুলে রোগীকে ইমারজেন্সি ব্লকে আনার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত রোগীর কন্যা মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জিবি হাসপাতাল এখনো গরিব মানুষের জন্য হয়ে উঠতে পারেনি। হাসপাতালে নিয়ে আসলে রোগীর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়। যেভাবে তার বাবাকে হাসপাতালে সুস্থ করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু মৃতদেহ নিয়ে যেতে হচ্ছে বাড়িতে। চিকিৎসকরা যদি ১১ঃ০০ টার সময় চিকিৎসক আসবে বলে আশ্বাস না দিয়ে চিকিৎসা করতেন তাহলে বেঁচে যেতেন তাদের রোগী। সুতরাং গরিবের জন্য এই হাসপাতাল হলে আজ মুখ্যমন্ত্রী কোথায়? গরিবের জন্য এই হাসপাতাল নয়! যদি টাকা থাকতো তাহলে জিবি হাসপাতালে আনত না বলে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাবি করলেন মৃত ব্যক্তির কন্যা। শুক্রবার এই ঘটনায় হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু অসহায় পরিবার শেষ পর্যন্ত জিবি হাসপাতাল থেকে আস্থা হারিয়ে মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। এদিনের ঘটনা আবারো রোগীদের পরিবারের মধ্যে গুঞ্জন জিবি হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে প্রধান রেফারেল হাসপাতালকে কালিমা লিপ্ত করছে একটা বড় অংশের চিকিৎসক মহল।

