স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ মে : সুশাসন জামানায় শাসক দলের নেতৃত্বের পর্যন্ত নিরাপত্তা নেই। ধর্মনগর পুর পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা যুব মোর্চার ধর্মনগর মন্ডল সভাপতি রাহুল কিশোর রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের দানা বাড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের মনে। উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তাঁর বাড়ির বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। মৃতদেহের গলায় গেরুয়া উত্তরীয় প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। পরিবারের অভিযোগ, সোমবার ধর্মনগরে বিজেপি-র জয়ের পর থেকেই রাহুলকে লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করে কেউ কেউ। দুপুরে এবং রাতেও কিছু রাষ্ট্রবাদী দুষ্কৃতি তাঁর বাড়িতে এসে অপমান করে।
এই বিষয়ে রাহুলের মা জানান, ভোটের ফলাফল বের হওয়ার পর রাহুল তার মাকে বলেছিল তাদের বাড়িতে আক্রমণ হতে পারে। তখন তার মা বলেছিল কেন তুই তো বিজেপি দলের সক্রিয় কর্মী, তাহলে কেন তোর বাড়িতে আক্রমণ হবে? এই কথা বলার পর কিছুক্ষণ পরেই শাসক দলের একদল দুষ্কৃতিকারী রাহুলের বাড়িতে যায়। তখন তাদের গেট তালা ছিল। দুর্বৃত্তরা রাহুলের মাকে বলে, রাহুলকে ঘর থেকে বের করে তাদের হাতে দেওয়ার জন্য। তখন রাহুলের মা বলেন, কোন কিছু বলার থাকলে আমার সাথে বলুন। তারপর দুর্বৃত্তরা নরম সুরে বলে মাসিমনি আপনি ঘর থেকে বের হয়ে আসুন, আপনাকে প্রণাম করবো। তারপর যথারীতি গেট খুলে দেওয়ার পর অভিযুক্তরা প্রণাম করে রাহুলকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। তখন রাহুলের মা দূর্বৃত্তদের কাছে সন্তানের প্রান ভিক্ষা চায়। তারপর দুর্বৃত্তরা চলে যায়। এরপর রাহুল তার মাকে বলে “মা আমার জন্য তোমাকে এত অপমান সহ্য করতে হয়েছে।” তখন রাহুলের মা ছেলেকে সান্ত্বনা দেন। তারপর রাতের বেলা দূর্বৃত্তরা বাড়িতে এসে বোমা ফেলে আক্রমণ চালায়। কিছুক্ষণ পরেই রাহুলের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। তবে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা খুন করেছে রাহুলকে। রাহুলের মা যে দুষ্কৃতিকারীদের নাম সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় উল্লেখ করেছে তারা হল বাবলু, নন, হীরক, পাবলু এবং বাবলু পুরকায়স্থ।
তারাই হয়তো রাহুলকে খুন করেছে বা মানসিক নির্যাতন করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। খবর লেখা পর্যন্ত কোন অভিযুক্তকে জালে তুলতে পারেনি ধর্মনগর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এলাকায় সড়ক অবরোধ চলছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন বিজেপি-র জেলা সভাপতি কাজল দাস। অবরোধকারীদের বক্তব্য যতক্ষণ না পর্যন্ত অভিযুক্তদের জালে তুলবে এবং ঘটনাস্থলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা এবং প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য যাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সড়ক অবরোধ চলবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী। অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। মৃতদেহ নিয়েই চলছে অবরোধ এলাকাবাসী এবং বিজেপি কর্মীদের। এদিকে দলীয় সূত্রে খবর, এলাকার বিধায়ক বিশ্ব বন্ধু সেন প্রয়াত হওয়ার পর থেকে ধর্মনগরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই তুঙ্গে উঠে। সূত্রের খবর বিজেপির প্রার্থী হওয়ার জন্য টিকিট পাওয়ার জন্য দাবিদার ছিল রাহুলও। পরবর্তী সময়ে জহর চক্রবর্তীর টিকিট মিলে হাই কমান্ডের নির্দেশে। সোমবার ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর এলাকায় দুর্বল গোষ্ঠীর উপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে অপরগোষ্ঠী। হুমকি ধমকি সবকিছুই চলে দুর্বল গোষ্ঠীর উপর। এর শিকার হলো রাহুল। ঘটনার পর মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রাহুলের বাড়িতে এবং অবরোধস্হলে আসেননি নবনির্বাচিত বিধায়ক। এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। রাহুলের স্ত্রী গর্ভবতী। তার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকাহত গোটা পরিবার।

