স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ এপ্রিল : শরণার্থী শিবির খুলে দায়িত্ব খালাস প্রশাসন এবং তিপরা মথার বিধায়ক মানব দেববর্মার। শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য খাবার, পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ সহ কোন কিছুরই বন্দোবস্ত করেনি বলে অভিযোগ। শিবিরে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, কালবৈশাখী তাণ্ডবে লন্ডভন্ড জম্পুইজলা ব্লকের চিকন ছড়া ভিলেজের চন্ডী ঠাকুরপাড়া এলাকা। প্রায় দেড়শো জনজাতি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙ্গে তছনছ। দেড় শতাধিক জনজাতি শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবাই বড়জলা এস বি স্কুলে শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু, মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের পেটে খাবার নেই।
জম্পুইজলা ব্লক প্রশাসন থেকে কেউ তাদের খবর নেয়নি বলে সংবাদ মাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েছে তারা। তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপোস। বিধায়ক মানব দেববর্মা এসে দেখে গিয়েছেন, কিন্তু কোন খাবারের ব্যবস্থা করেন নি বলে অভিযোগ। শিশুরা খাদ্যের জন্য চিৎকার করছে। এমনকি শরণার্থী শিবিরে, বিদ্যুৎ নেই, পানীয় জল নেই। একটি মোমবাতির আলোর উপর নির্ভর করে শরণার্থী শিবিরে রয়েছে জনজাতিরা। তারা প্রশাসনের কাছে সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে চন্ডী ঠাকুরপাড়া এলাকায় প্রায় দেড়শ জনজাতি গৃহস্থের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়। টিনের ছাউনিতে শত শত ছিদ্র হয়ে অনবরত জল পড়ছে ঘরে।
ঘরের মধ্যে কোনভাবেই তারা থাকতে পারছে না। যার ফলে তারা আশ্রয় নিয়েছে বড়জলা এসবি স্কুলে শরণার্থী শিবিরে। প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকার শিশু থেকে বৃদ্ধ মহিলা সবাই। সারারাত তাদেরকে উপোস থাকতে হবে বলে জানিয়েছে তারা। তবে শরণার্থী শিবিরে ছোট ছোট শিশুদের জন্য চিন্তায় রয়েছে তাদের অভিভাবকরা। কি করবে তারা ভেবে উঠতে পারছে না। আকাশ এখনো মেঘাচ্ছন্ন। যেকোনো সময় আবার নামতে পারে মুষলধারে বৃষ্টি। যার ফলে বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে চন্ডী ঠাকুরপাড়া এলাকার সমস্ত জনজাতিরা।

