বাড়িরাজ্যশহরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পেট্রোল এবং ডিজেলের কালোবাজারি, সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া...

শহরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পেট্রোল এবং ডিজেলের কালোবাজারি, সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হলো একটি পেট্রোল পাম্প

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ মার্চ : পেট্রোল এবং ডিজেল সংকট নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে যান চালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। আর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আগরতলা শহরের একাধিক পেট্রোল পাম্প কালোবাজারিতে সামিল হয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গণরাজ চৌমুহনী স্থিত জ্যোৎস্না পেট্রোল পাম্পের কালোবাজারি সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ২০ থেকে ২৫ লিটারের ড্রাম দিয়ে বেআইনিভাবে ডিজেল নিয়ে মজুদ করতে দেখা গেছে।

তারপরে নিদ্রা ভেঙেছে প্রশাসনের। শনিবার সকালে লিগেল মেট্রলজিকাল ডক্টর সহ অন্যান্য দপ্তর যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পেট্রোল পাম্পের মালিক ও কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। কথাবার্তায় ব্যাপক অসংলগ্নতা পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্প সাময়িক বন্ধ করে দেয়। একইসঙ্গে শোকজ নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কোন ধরনের অনিয়ম বা কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না। মানুষের পরিষেবার উর্ধ্বে কোন কিছু নয়। উল্লেখ্য, এই জ্যোৎস্না পেট্রোল পাম্প সহ অন্যান্য পেট্রোল পাম্প গুলি প্রতিদিন শহরের মধ্যে এভাবে কালোবাজারি করে চলেছে। কখনো বোতল, কখনো ড্রাম দিয়ে মানুষের কাছে চড়া দামে পেট্রোল এবং ডিজেল বিক্রি করছে। শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও বেআইনিভাবে পেট্রোল এবং ডিজেল বিক্রি হয়।

 শালবাগান, মিলন চক্র, ড্রপ গেট সহ বিভিন্ন এলাকাতে পেট্রোল বিক্রি হয়। বিশেষ করে ড্রপ গেট এলাকায় পেট্রোল বিক্রি হয় সরকারি দপ্তরের গাড়ির পেট্রোল। পুলিশ লাইনের প্রকিউরম্যানের গাড়ি চালকরা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ড্রপ গেইট এলাকায় পেট্রোল বিক্রি করে চলেছে। বিভিন্ন পুলিশের গাড়ি থেকে পেট্রোল এবং ডিজেল কয়েকশো লিটার বিক্রিতে হয় এলাকায়। এবং এই পেট্রোল আগরতলা শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও পাচার করে স্থানীয় কিছু তেল মাফিয়া। পূর্বতন জামানার কুখ্যাত তেল মাফিয়ারা বর্তমান সরকারের আমলেও জামাই আদরে রয়েছে। এবং একটা বড় অংশের পুলিশ কর্মী প্রতিমাসে সরকারি গাড়ির পেট্রোল, ডিজেল বিক্রি করে বেতন থেকেও বেশি টাকা কামাই করেন। সুশাসন জামানায় এই দুঃশাসন বন্ধ করার হিম্মত দেখায় নেই বর্তমান সরকার। এই বিষয়গুলি সম্পর্কে পুরোপুরিভাবে অবগত রয়েছেন প্রকিউরম্যানের পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে অন্যান্য আধিকারিকরা। আশ্চর্যের হলেও এই এটাই সত্যি। এভাবেও পেট্রোল প্রতিদিন কালোবাজারি করছে প্রশাসনের কর্মীরা। যা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনটাই দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য