স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ মার্চ :এক পরিবারের দুই ছেলে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। শয্যাশায়ী দুই ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা দম্পতি। কারণ, একদিকে মারণ ব্যাধি থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ, অপরদিকে চরম দারিদ্র্যতা। অসহায় পরিবারটি খোয়াই মহকুমার পশ্চিম চেবরি গ্রাম পঞ্চায়েত নন্দনপল্লী এলাকার বাসিন্দা। অসুস্থ দুই ছেলের বাবা তথা গৃহকর্তার নাম রঞ্জন রায়। রঞ্জন রায় দিনমজুর। সহায় সম্বল খুইয়ে ছেলেদের বাঁচাতে এখন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন অসহায় বাবা। জানা গেছে, বড় ছেলে সত্যজিৎ রায়ের দেহে থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে ২০১০ সালে। নিজের সামান্য সঞ্চয় ও দিনমজুরির টাকা দিয়ে দীর্ঘ দিন রাজ্যে চিকিৎসা করালেও সত্যজিতের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটে। বর্তমানে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া সত্যজিৎ পুরোপুরি শয্যাশায়ী, হাঁটাচলার ক্ষমতাও হারিয়েছে। ২০২৩ সালে তাকে দিল্লি এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে ২০১৮ সালে ছোট ছেলে রুদ্রনীল রায়ের শরীরেও এই রোগ থাবা বসায়। বর্তমানে দুই ছেলের চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন রঞ্জন। রঞ্জন রায়ের অভিযোগ, চরম বিপাকে পড়ে তিনি স্থানীয় বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এমনকি ২০২৫ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার সাথেও দেখা করে ছেলেদের বাঁচানোর আর্জি জানান তিনি। রঞ্জনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুধু রক্ত পরিবর্তনের পরামর্শ দিলেও উন্নত চিকিৎসার কোনো স্থায়ী সুরাহা বা আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেননি। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুরেও কোনো সাহায্য না মেলায় ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়েছেন এই দিনমজুর। বর্তমানে বাড়িতে শয্যাশায়ী দুই ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা দম্পতি। এক বেলা খাবার জোটানো যেখানে দুষ্কর। রঞ্জন রায়ের দাবি, সরকার যদি সহযোগিতা করে তাহলে দুই ছেলে বেঁচে থাকবে। আশাবাদী উন্নত চিকিৎসা করলে উনার দুই ছেলে সুস্থ হয়ে উঠবে।

