স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ মার্চ : বিশালগড় গুলি কাণ্ডে অবশেষে গ্রেপ্তার মন সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বিশালগড়ের অন্যতম ত্রাস এই মন সরকারকে গ্রেফতার করে আনে। দীর্ঘদিন ধরে বিশালগড়ে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে কিছু সমাজদ্রোহী। যাদের মাথার উপর ছত্রছায়া হিসেবে রয়েছে হেভিওয়েট নেতৃত্ব। যার কারনে তাদের এই উত্থান গত কয়েক বছরের লক্ষ্য করা গেছে বিশালগড়ে। এর মধ্যে অন্যতম নাম হল মন সরকার, রণবীর দেবনাথ থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন।
তাদের দাপটে বিশালগড়ের সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমশ ঝুঁকিতে পড়ছে। জমির দালালি, নিগো মাফিয়া, অস্ত্র পাচার, নেশা মাফিয়া, চিনি মাফিয়া, গরু পাচার, বাইক পাচার থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে তাদের নাম জড়িয়ে রয়েছে। অথচ কোন এক অদৃশ্য কারণে তাদের নাম সামনে আসতে দিচ্ছে না আরক্ষা প্রশাসন এবং হেভিওয়েট নেতৃত্ব। এই কুখ্যাতদের সোর্সমানি দিয়ে চলছে বিশালগড়ে এলাই কারখানা। গত কয়েক মাসে একাধিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশালগড় বাসী। দিনরাত ২৪ ঘন্টা তাদের উপদ্রব অতিষ্ঠ করে তুলেছে সাধারণ মানুষকে। বিশালগড় মহকুমায় কালো, সাদা থার গাড়ি, স্করপিও গাড়ির অন্যতম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের কাছে। মানুষের বুক ফাটলেও মুখ খুলতে পারছে না কেউ তাদের ভয়ে। পুলিশের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে আমজনতা।
থানায় গিয়ে বিচার চাওয়ার হিম্মত পর্যন্ত দেখাতে পারছে না কেউ। কারণ বিশালগড় বিভিন্ন জায়গায় তাদের ঘাঁটি রয়েছে। বরং বাড়িঘর ফেলে এই দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে কিছু বাঁচার চেষ্টা করছে মানুষ। কেউ বাড়ি কিনলে, কেউ ঘরের ছাদ ঢালাই দিলে এই রণবীর এবং মনের মতো কুখ্যাতরা বাড়ির সামনে গিয়ে গুলি চালিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা দাবি করছে। আর তারা নিষ্কর্মা হয়ে ব্যাংক ব্যালেন্স পাহাড় সমান করছে। তাদের জন্য নেই কোন ইডি, সিবিআই, আয়কর দপ্তর! সব খবর প্রশাসনের কানে থাকলেও নেই কোন কড়া পদক্ষেপ। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো গত কয়েক মাস আগে বিশালগড়ে গরু পাচার রুখতে গিয়ে সীমান্ত প্রহরী পর্যন্ত আক্রান্তের ঘটনা সামনে এসেছে। আরো লক্ষ্য করা গেছে ড্রাগস মাফিয়া দের আটক করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে যুবকরা। তবে পুলিশ ভালো করেই জানে তাদের ঘাঁটি কোথায়, অর্থাৎ বিশালগড় এইচডিএম অফিসের পেছনে শ্মশান এবং বাইপাস হল এই রণবীর ও মনদের জমায়েতের জায়গায়। তাদের নেতৃত্বে রয়েছে কয়েক শতাধিক যুবক। যারা প্রতিদিন সমাজকে বিষিয়ে তুলছে। সামাজিক মাধ্যমে পর্যন্ত প্রকাশ্যে গালিগালাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে তারা। সুশাসনের ছিটেফোঁটা পর্যন্ত রাখতে চাইছে না তারা বিশালগড়ে। সবচেয়ে লজ্জা জনক বিষয় হলো, রাষ্ট্রপতি কলস প্রাপ্ত পুলিশ রণবীরকে আটক না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকায় পুতুল সাজিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছে বিরোধী দল সিপিআইএম। যাইহোক মানুষ চাইছে, বিগত জামানাকে পিছে ফেলে দিয়ে যেন বিশালগড় চ্যাম্পিয়ন হয়ে না দাঁড়ায় অপরাধমূলক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে। মানুষ শান্তি চায় বিশালগড়ে। যার জন্য রণবীর এবং মনের কুখ্যাতদের বিরুদ্ধে যেন সঠিক ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়। নাহলে জামিন পেয়ে যাবে। শুক্রবার জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা জানান, ঠিকাদার অরূপ সাহা এবং অপর একজন সরকারি ঠিকেদারের বাড়ির সামনে গুলি কান্ডের অভিযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তদন্তে নেমে দুজনকে আটক করেছিল পুলিশ। এখন আরো দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হল শুভম সাহা এবং রণবীর সরকার ওরফে মন সরকার। জেলা পুলিশ সুপার আরো জানিয়েছেন কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। আরো যারা জড়িত তাদের জালে তোলার চেষ্টা করছে।

