বাড়িরাজ্যপ্রস্তাবিত নয়া বাজেট বর্তমান সরকারের আরও অধিক প্রতারণা ও জালিয়াতি পূর্ণ :...

প্রস্তাবিত নয়া বাজেট বর্তমান সরকারের আরও অধিক প্রতারণা ও জালিয়াতি পূর্ণ : আশীষ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ মার্চ :প্রস্তাবিত নয়া বাজেট বর্তমান সরকারের আরও অধিক প্রতারণা ও জালিয়াতি পূর্ণ। এতে সংখ্যার কারসাজি করে যেমন নিজেদের ব্যর্থতা আড়ালের নগ্ন চেষ্টা করছে সরকার। মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রাজ্যের বাজেট বরাদ্দ ছিলো ৩২,৪২৩ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি দাঁড়িয়েছিলো ৪২৯ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা। ঐ বাজেটে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক সুরক্ষা সহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা ছিলো, বাস্তবে তার কিছুই দেখা যায়নি। বর্তমান বাজেট পরিকল্পনার পূর্বে রাজ্য সরকার ষোড়শ অর্থ কমিশনের কাছে আগের ৫ বছরের জন্য রাজ্যের বরাদ্দ দাবি করেছিলো ১৭৮ লক্ষ কোটি টাকা। এতে রাজ্যের আর্থিক চাহিদা, অবকাঠামোগত, পাহাড়ি এলাকার সমস্যাগুলি নিরসন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সাথে ছিলো সীমান্তবর্তী রাজ্যের অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয়। কিন্তু অর্থ কমিশন যে রিপোর্ট প্রকাশ করে তাতে দাবি ও প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির বিশাল ফারাকই পরিলক্ষিত হয়।

 বর্তমান বাজেট পেশের পূর্বে এই অর্থবর্ষের যোড়শ অর্থ কমিশনের অনুদান ৩১ কোটি টাকা কম পেয়েছে রাজ্য সরকার। আমাদের রাজ্য সহ দেশের ছোট ও অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল রাজ্যগুলি বরাবরই কেন্দ্রীয় করের অংশ ও উন্নয়ন প্রকল্প সহ নানা খাতে কেন্দ্রীয় ব্যয়ে বরাদ্দের উপর নির্ভর। আর তাই তো বিগত সরকার বরাবরই যা বেশি বেশি করে প্রচারে নিয়ে আসছিলো এই কর্মসংস্থান, শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার কারণেই রাজ্য সরকার রাজ্যবাসীর আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না। সেই ক্ষেত্রে সংকটাপন্ন সকল মানুষই বিশ্বাস করেছিলো মোদি-শাহ সহ সকলের প্রতিশ্রুতি যে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার হলে রাজ্যে টাকার কোনও অভাব হবে না। আট বছরে প্রমাণিত অন্য সব প্রতিশ্রুতির ন্যায় এটাও সম্পূর্ণ অসত্য, প্রতারণাপূর্ণ প্রতিশ্রুতি যা এই বাজেটেও প্রতিফলিত। বাজেটে আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৮৭১ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা, ঘাটতি দেখানো হয় ২৪০ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। গত বছরের অভিজ্ঞতা বাজেটে ঋণ গ্রহণ করার প্রস্তাব দেখানো হয়েছিলো ৪৯৯৩ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা। বছর শেষে সংশোধনী বাজেটে দেখা গেছে ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯৬১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। ২০২৬-২৭ সালে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে ৬৯০৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। ঋণের সুদ ও আসল মেটাতে গত বছরে ২৪৮৩ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা দেখানো হয়েছে। নয়া বাজেটে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামান্য কিছু অর্থ বরাদ্দ বাড়লে কর্মসংস্থান, শিক্ষক কর্মচারীদের বঞ্চনা দূরীকরণ, কৃষক, মহিলা সহ প্রান্তিক সকল অংশের মানুষের নিত্যদিনের সমস্যার সুরাহা হবে না। এর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জনগণকে নিয়ে অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য