স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ ফেব্রুয়ারি : পুলিশ সপ্তাহে রাজ্য পুলিশ নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে সচেতনতার উপর জোর দিল। বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জেলা পুলিশ ও মহকুমার পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতন মূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ত্রিপুরা পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাজধানীর উমাকান্ত ময়দান থেকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক দৌড়ের আয়োজন করা হয়। সবুজ পতাকা নেড়ে ম্যারাথন দৌড়ের উদ্বোধন করেন রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা বিভাগের পুলিশ আধিকারিক, জেলা পুলিশ সুপার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার সহ অন্যান্য আধিকারিক।
রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক বক্তব্য রেখে বলেন, নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়তে সরকার সংকল্পবদ্ধ। ২০২৪ সাল থেকেও বেশি ২০২৫ সালে নেশার বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের সফলতা সামনে এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় নেশা পাচার রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে ত্রিপুরা পুলিশ। নেশা সমাজের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনোভাবে নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়তে হবে পুলিশকে। সেই দিশা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে ত্রিপুরা পুলিশ। এমনটাই বললেন রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সাব্রুম থানা এবং মনু থানার উদ্যোগে দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সাব্রুম শহরে নেতাজি চৌমুহনী সামনে এবং মনুবাজার স্কুল চৌমুহনী থেকে শুরু হয় দৌড়। এতে জনজাতি হোস্টেল এর আবাসিক, পুলিশ, টিএসআর ও সামাজিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সাব্রুমের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নিত্যানন্দ সরকার, সাব্রুম নগর পঞ্চায়েত ভাইস চেয়ারম্যান দীপক দাস উপস্থিত ছিলেন। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নিত্যানন্দ সরকার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে। এদিকে ঊনকোটি জেলা পুলিশের উদ্যোগে কৈলাসহর শহরে এক ম্যারাথন দৌড় অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার। ম্যারাথন দৌড়টি শহরের ঊনকোটি কলাক্ষেত্রের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন রাজপথ পরিক্রমা করে কৈলাসহর থানা প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।
এদিন ফ্ল্যাগ অফ করে ম্যারাথন দৌড়ের সূচনা করেন ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপার সুধামবিকা আর। পুলিশ সুপার ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুপম চাকমা, ইন্সপেক্টর যতীন্দ্র দাস সহ আরও অন্যান্য আধিকারিকরা। অনুষ্ঠান শুরুর পর ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপার সুধামবিকা আর সংবাদ প্রতিনিধিদের জানান, নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তোলার জন্য এবং নতুন ফৌজদারি আইন-২০২৩ সম্পর্কে সচেতনতা মূলক প্রচারের লক্ষ্যেই মূলত ম্যারাথন দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছে। এই ম্যারাথন দৌড়ে জেলার প্রতিটি থানার পুলিশ কর্মীরা অংশগ্রহণ করে। গোমতী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ‘রান ফর নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ আয়োজন করা হয়। এদিন সকালে উদয়পুর শহরে অনুষ্ঠিত এই সচেতনতামূলক দৌড়ে পুলিশ কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। দৌড় শুরু হয় উদয়পুরের রমেশ চৌমুহনী এলাকা থেকে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে শেষ হয় পুলিশ লাইন স্থিত জেলা সশস্ত্র রিজার্ভ অফিস প্রাঙ্গণে। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিশভ, উদয়পুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলি রায় সহ মহকুমার বিভিন্ন থানার পুলিশ কর্মীরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিশভ বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নেশা নির্মূল করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। যুব সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন— সকলের সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। তিনি আরও জানান, নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, স্কুল-কলেজে কর্মশালা এবং মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। আগামী দিনেও জেলাজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
পাশাপাশি শান্তির বাজার মহকুমা পুলিশের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার। এদিন সকালে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ নাগরিক ও যুবসমাজের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দৌড়টি শান্তির বাজার থানা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়। প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে প্রতিযোগিতাটি শান্তির বাজার মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। উপস্থিত ছিলেন শান্তির বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার সমীর বিশ্বাস, বাইখোড়া থানার ওসি বিষ্ণু চন্দ্র দাস, জোলাইবাড়ি ফাঁড়ি থানার ওসি বকুল জয় রিয়াং, মনপাথর ফাঁড়ি থানার ওসি জয়ন্ত দাস সহ অন্যান্যরা। কেবল পুলিশ কর্মীরাই নন, এই ৫ কিলোমিটার দৌড়ে পা মিলিয়েছেন শান্তির বাজার মহকুমার সাধারণ মানুষও। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

