Wednesday, February 18, 2026
বাড়িরাজ্যসব্জি বাগান নষ্টের প্রতিবাদে প্রাণঘাতী হামলা, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইল পরিবার

সব্জি বাগান নষ্টের প্রতিবাদে প্রাণঘাতী হামলা, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইল পরিবার

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ ফেব্রুয়ারি :  প্রতিবেশীর গৃহপালিত পশু দ্বারা সব্জি বাগান নষ্ট হওয়ার প্রতিবাদ করতেই প্রাণঘাতী হামলার শিকার হল এক অসহায় পরিবার। মারধরে তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের কর্তা বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অথচ ঘটনার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত ন্যায় বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর ও নির্মম এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে ত্রিপুরা উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি থানাধীন ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে।

 জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ মে ফুলবাড়ি এলাকার আসুক আহমেদের সব্জি বাগানে প্রতিবেশী রিয়াজ উদ্দিনের গৃহপালিত পশু ঢুকে ফসল নষ্ট করে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেই বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।অভিযোগ, এরপর রিয়াজ উদ্দিনের নেতৃত্বে মতাইর আলী, ইনতাজ আলী, সিয়াব উদ্দিন, আব্দুল আলী সহ প্রায় কুড়ি জন নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধভাবে আসুক আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী সপ্না খাতুনের উপর হামলা চালায়। বাদ যায়নি তাঁদের কন্যারাও। প্রতিবেশীদের মারধরে রক্তাক্ত অবস্থায় গুরুতর আহত হন আসুক আহমেদ সহ পরিবারের একাধিক সদস্য। পরে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কদমতলা হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। জেলা হাসপাতাল থেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সুস্থ হয়ে ফিরলেও আসুক আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বহিঃরাজ্যের শিলচর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আসুক আহমেদের স্ত্রী সপ্না খাতুন জানান, মারধরের জেরে তাঁর স্বামীর ব্রেনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।

 দীর্ঘ নয় মাস ধরে চিকিৎসা চললেও অর্থাভাবে পরিবার আজ চরম সংকটে। সংসার কার্যত ভেঙে পড়েছে। ঘটনার পর চুরাইবাড়ি থানায় নামধাম উল্লেখ করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও আজ পর্যন্ত পুলিশ কার্যত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ। ন্যায় বিচারের আশায় উত্তর জেলার পুলিশ সুপার, মহিলা কমিশনকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল মেলেনি।এমনকি কদমতলা ব্লক চেয়ারম্যান ও স্হানীয় মণ্ডল সভাপতির দরজায় কড়া নাড়লেও ফিরে আসতে হয়েছে হতাশ হয়ে। সপ্না খাতুনের আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিকভাবে বামফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে তাঁদের পরিবার বিজেপি সমর্থক হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, আমরা শুধু ন্যায় বিচার চাই।

আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য সরকারের সাহায্য দরকার। অবশেষে শেষ ভরসা হিসেবে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা-র আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে ন্যায় বিচার ও আর্থিক সহায়তার কাতর আবেদন জানিয়েছেন অসহায় পরিবারটি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর হামলাকারীর পক্ষ থেকেও আসুক আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে—নয় মাস ধরে নিশ্চুপ থাকা পুলিশ প্রশাসন আদৌ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে কি না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য