স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৩ ফেব্রুয়ারি : চরম গাফিলতিতে চলছে রাজ্যের একটা অংশের শিক্ষক কর্মচারী। বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও কর্ণপাত হচ্ছে না ডাবল ইঞ্জিন সরকার। বাম যাবানার সংস্কৃতিকে পুঁজি করে চলছেন তারা। মর্জিমাফিক বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া এবং বাড়িতে বসে পাইভেট টিউশন করা তাদের বহুকাল পুরনো অভ্যাস। আর মাস ফুরাতেই জনগণের পয়সায় মোটা অংকের বেতন গুনছেন তারা। অথচ জনগণের প্রতি যে দায় দায়িত্ব তাদের থাকার কথা সেগুলি চরমভাবে তারা উপেক্ষা করে চলেছেন। এরই নজির সৃষ্টি করল বিলোনিয়া বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়ে ডিডিও কোন এক কাজে গিয়ে দেখতে পান বিদ্যালয়ে নেই শিক্ষক জীবন দেবনাথ। দুপুর তিনটা ৪০ মিনিট থেকে তিনি বিদ্যালয়ে জীবন দেবনাথ এর সঙ্গে কথা বলার জন্য বসে থাকলেও আজব কান্ড জীবন দেবনাথ ক্লাসের সময়ে স্কুলেই আর আসলেন না। প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষিকাকে সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ে থাকা বাধ্যতামূলক। এ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা পুরোপুরি চাকরি বহির্ভূত কার্যকলাপ। প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তিনি এগুলি করে চলেছেন বলে স্বীকার করলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও। প্রধান শিক্ষক জানান জীবন দেবনাথ প্রতিনিয়তই এ ধরনের গাফিলতি করে চলেছেন। ফোন করলে তিনি বলেন বাড়িতে গিয়েছেন ভাত খাওয়ার জন্য। অথচ মর্জি মাফিক যখন খুশি তখন বিদ্যালয়ে আসছেন আবার বিদ্যালয় থেকে চলে যাচ্ছেন তিনি। যার ফলে পঠনপাঠনের ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ডিডিও বিদ্যালয়ে এসে জীবন দেবনাথকে না পেয়ে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রাজ্যের আরও বহু বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে জীবন দেবনাথের মতো অনেক শিক্ষক রয়েছেন যারা প্রতিদিন কর্তব্যের গাফিলতি করে চলেছেন। সকাল বিকাল টিউশনির করে বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন লাটে তুলেছে। এরমধ্যে যদি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গভীর হয় তাহলে দপ্তর পর্যন্ত চরম গাফিলতির খবর পৌঁছায় না। বিশেষ করে লক্ষ্য করা যায় আগরতলা শহরের বেশ কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন যারা বাড়িতে বসে টিউশনি করেন। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বার্তা থাকে তাদের কাছে পড়লে নাকি পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাবে। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাড়ি ঘর ভাড়া নিয়ে টিউশনি করছেন। দপ্তর যাতে এ বিষয়ে খবর না পায় তার জন্য তারা কয়েক মাস পর পর ভাড়া বাড়ি পাল্টে নেয়। দপ্তরের চরম গাফিলতির কারণে এ ধরনের উদাসীনতা রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলির মধ্যে ক্রমশ বেড়ে চলেছে। যার কারণে সরকারি বিদ্যালয় ছেড়ে বেসরকারি বিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকি বাড়ছে ছাত্রছাত্রীদের। অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলির মধ্যেও চলছে লুটের রাজ। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছেই প্রাইভেট টিউশন নিতে হবে ছাত্র-ছাত্রীদের। ফলে বহু অভিভাবক মহল একদিকে বিদ্যালয়ের অধিক ফি এবং প্রত্যেক বিষয়ের জন্য বিদ্যালয়ের প্রাইভেট টিউটর রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এক প্রকার ভাবে নাজেহাল অভিভাবক মহল। লুটের রাজ চালাচ্ছে সে শিক্ষক শিক্ষিকারা।

