স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৯ জুন : রাজ্যে উন্নয়নের একের পর এক দাবি সামনে এলেও বাস্তব অন্য কিছু বলছে। সুবল সিং থেকে আগরতলা যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির অবস্থা বেহাল। এই রাস্তার পিচ কার্পেটিং এখন প্রায় সম্পূর্ণ উঠে গেছে। রাস্তার অধিকাংশ অংশই গর্তে ভরা। কোথাও কোথাও এমন অবস্থা যে, প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতিবাদেই সোমবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করেন সুবল সিং এলাকার গ্রামবাসীরা।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে রাস্তার এমন বেহাল দশা চললেও এন.এইচ.ডি.এল কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া দুঃসহ হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ধুলাবালির কারণে শিশু, বয়স্ক সহ বহু মানুষ শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এলাকায় পানীয় জলের সমস্যাও দীর্ঘদিনের হলেও তারও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও শুধু আশ্বাস মিলেছে, বাস্তবে কাজের অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করার লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও পথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
পাশাপাশি এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পিচ এক বছরের মধ্যেই উঠে যায়, তবে নির্মাণের গুণমান, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রকল্প তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন? সরকারি অর্থ ব্যয় করে নির্মিত একটি রাস্তা এত দ্রুত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লে তার দায় কার? বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এন.এইচ.ডি.এল-এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারেরও এই বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। উন্নয়নের দাবি তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য রাস্তার সুবিধা পাবেন। এখন দেখার বিষয়, গ্রামবাসীদের এই আন্দোলনের পর এন.এইচ.ডি.এল, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং রাজ্য সরকার কত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, নাকি সুবল সিং বাসীর দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হয়।

