Wednesday, August 26, 2026
বাড়ি রাজ্য রাজনৈতিক ময়দানে বিজেপি -কে কাঠগড়ায় দাঁড় করালো আমরা বাঙালি

রাজনৈতিক ময়দানে বিজেপি -কে কাঠগড়ায় দাঁড় করালো আমরা বাঙালি

রাজনৈতিক ময়দানে বিজেপি -কে কাঠগড়ায় দাঁড় করালো আমরা বাঙালি

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ নভেম্বর :রবিবার আমরা বাঙালী দলের রাজ্য কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত করা হয়। উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদক গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল পাল।

তিনি বলেন সাহিত্য সম্রাট ঋষি বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বন্দেমাতরম গানটির সার্ধশত বর্ষ উপলক্ষে বছরব্যাপী কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মসূচি নেওয়ার পেছনে যতটা না বঙ্কিম চন্দ্রকে শ্রদ্ধা জানানোর কথা বলছে এর চেয়ে বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে আমরা বাঙালী দল মনে করে। কারণ যে দলের নেতারা বলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি ইংরেজদের খুশি করতে জনগণ মন গানটি লেখেন বলে অপবাদ দিয়ে রাজনীতি করে এবং বাংলা ভাষাকে নিয়ে অপমান জনক মন্তব্য করে।

পাশাপাশি আমার সোনার বাংলা গান গাওয়ার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহীতার তকমা দেয়। সেই দল হঠাৎ করে বন্দেমাতরম গানটির সার্ধশত বর্ষ অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি বর্ষ ব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে কি সামনে পঃবঙ্গে নির্বাচনের প্রাক্কালে বাঙালীর মন জয় করার জন্য। আমরা বাঙালী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এটি ছিল পরাধীন ভারতবর্ষের বিপ্লবীদের মুক্তির ও আত্মবলিদানের বীজমন্ত্র। ফাঁসি কাষ্ঠে দাঁড়িয়েও তারা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত বন্দেমাতরম ধ্বনি দিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশমাতৃকার সেবায়। তাই বঙ্কিম চন্দ্রের বন্দেমাতরম গানটিকে যেন নিছক ভোট বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল হিসেবে যেন ব্যবহার না করা হয় বলে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বঙ্গভূমিকে উদ্ধার করার জন্য এই গানটি লিখেছিলেন। আজ সেই বঙ্গভূমি বিলীন হয়ে গেছে দেশীয় ক্ষমতা লোভী শাসকের কারণে। যারা এই দেশের স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে বেশি আত্মবলিদান দিয়েছে সেই জাতি আজ পরাধীন ভারতবর্ষের চাইতেও খারাপ অবস্থায় আছে। যারা বন্দেমাতরম স্রষ্টার জাতিকে রাষ্ট্রহীন করার জন্য এন আর সি এবং এস আই আর বলবৎ করে বেনাগরিক করার চেষ্টা করছে। তাদের বন্দেমাতরম গানটির স্মৃতিচারণ কর্মসূচি মেকী বাঙালী দরদ। আমরা বাঙালী দলের সম্পাদক গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল বলেন এন আর সি ও এস আই আর বলবৎ করে বাঙালীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করতে চাইছে বর্তমান সরকার। বিহারে এস আই আর এর ফলে প্রায় ৬৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অথচ সরকার অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশীদের চিহ্নিত করতেই এই এস আই আর লাঘু করে।

অথচ বিহারে কতজন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী ধরা পড়েছে তা নিয়ে কিন্তু নির্বাচন কমিশন কিছু বলছেন না। তাহলে কি ২০৪৭ সাল পর্যন্ত বিকশিত ভারতের শ্লোগান তুলে বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য এই এস আই আর। আর না হলে এত লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে কি করে? আর এই কারণেই সারা দেশজুড়ে এস আই আর নিয়ে আতংক। আগে যেখানে ভোট দানকে একটি পবিত্র কর্তব্য মনে করতো সেখানে এখন নাগরিকত্ব হারানোর ভয় তাড়া করছে। তাছাড়া নতুন ভোটারের নাম দিতে হবে। কিন্তু এই প্রমাণ দিতে গিয়ে দেখা গেছে একজন ভোটার আগে অন্য জায়গায় ভোট দিয়েছে এবং এখন নূতন জায়গায় ২০০২ ভোটার তালিকায় নাম নেই। এরফলে প্রকৃত ভোটারদের বিভিন্ন হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং এই আতংকে পঃবঙ্গে এবং অন্যত্র আত্মঘাতির পথ বেছে নিয়েছে অনেকে।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha