স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ অক্টোবর : ধনপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ফের মধ্যযুগীয় নৃশংসতার শিকার এক গৃহবধূ । যাত্রাপুর থানার অন্তর্গত কাইচ্চাখলা এডিসি ভিলেজে এক গৃহবধূকে অমানবিকভাবে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটলো ধনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কাইচ্চা খলা এডিসি ভিলেজ এলাকায়। স্বামীর বাড়িতেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার এক গৃহবধূ।
এই ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় পুরো এলাকা। ঘটনাটি ঘটেছে ১৫ই অক্টোবর সকালে। অভিযোগ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্ত্রী শাহানার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায় জসিম মিয়া। বেধড়ক মারধরের ফলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন স্ত্রী শাহানা। এরপর ধারালো দা দিয়ে তার মাথার চুল কেটে ফেলে অভিযুক্ত স্বামী। পরে সে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সেই দৃশ্য দেখায় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি দেখে প্রতিবেশীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা গৃহবধূর বাপের বাড়িতে খবর পাঠায়। খবর পেয়ে শাহানার পিতা জামাল উদ্দিন ও আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে এসে অজ্ঞান অবস্থায় গৃহবধূ শাহানাকে উদ্ধার করে কাঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা যাত্রাপুর থানায় গিয়ে নিরাপত্তার আবেদন জানিয়ে অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছিল শাহানা আক্তার ও জসিম মিয়ার। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই জসিম মিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য স্ত্রীর উপর মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন চালাত। একাধিকবার জামাল উদ্দিনকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে অর্থসাহায্য করলেও তার লোভ কমেনি। গত দুই বছর ধরে শশুর বাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে অনবরত চাপ সৃষ্টি করছিল জসিম। টাকা না পেয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করত বলে অভিযোগ। ১৫ অক্টোবরের সকালের সেই ঘটনাটি এরই জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান