স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর : আধুনিকতার ছোঁয়ায় সংস্কৃতির শহর আগরতলা কলঙ্কিত হয়েছে। এই শহরে জড়িয়ে রয়েছে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের বহু স্মৃতি। আজ এখানেই ওপেন মদ খেয়ে মাতলামি করার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে নাইট ক্লাব। পরিতাপের বিষয় হলেও এটাই সত্যি। শনিবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন সংলগ্নে পুরনো রোজভ্যালির বিল্ডিং -এর মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে নাইট ক্লাবের নামে খুল্লাম খুল্লা মদের বাজার। এলাকায় গেলে মনে আর বেজে উঠবে না “পুরনো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়, চোখের দেখা, প্রানের কথা সে কি ভোলা যায়।”
এখন এলাকায় গেলে মনে বাজবে “আজ কি পার্টি, মেরে তরফ সে।” হ্যাঁ এভাবেই সংস্কৃতি হারানোর কায়দা হয়েছে ফায়দা জন্য। অমান্যকারীদের রোজভ্যালি বিল্ডিংয়ে সরকার সীলমোহর দিয়েছে নাইট ক্লাব খোলার জন্য। এ বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, নাইট ক্লাবের হলো দেশি এবং বিদেশি মদের সংস্কৃতি। আর এগুলি করে রাজ্যের মানুষের জীবন, যৌবন, সংস্কৃতি সম্পন্ন কুরুষিত করতে চাইছে। এই সরকার বুঝতে পারছে তাদের পরাজয় আসন্ন। তাই তারা রাজ্যের অবশিষ্ট পর্যন্ত ধ্বংস করে দিতে চাইছে। তিনি আরো বলেন, তথাকথিত রাষ্ট্রবাদীদের কাছে জয় শ্রীরাম হলো অস্ত্র, আর তাদের ভেতরটা হলো ভারতীয় সংস্কৃতির বিরোধী মানসিকতা। রাজ্যে গত সাড়ে সাত বছরে তাদের জোট শাসন করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য কোন পরিকাঠামোই গড়ে তুলতে পারেনি।
বামফ্রন্ট সরকারের সময়ের গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে গড়ে উঠেছিল রবীন্দ্র শত বার্ষিকী ভবন। যা আজ ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যেতে চাইছে বর্তমান সরকার। তিনি আরো বলেন, স্মার্ট সিটির অর্থ ৫৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে যে রিপোর্ট দিয়ে গেছে তার সমস্ত উপাদান গুলি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ শহরের মধ্যে কোথায় এত টাকা ব্যয় হলেও চোখে পড়ছে না। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৈরি করা কাঠামোগুলিতে রং লাগানো এবং লাল নীল বিদ্যুতিক বাতি লাগানো ছাড়া আর কি হয়েছে? এমনকি আগরতলা পুর নিগমের একাউন্ট থেকে ১৬ কোটি টাকা জালিয়াতি করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করছে নিগম। কিন্তু সন্দেহ হয় এটা আরো বহু কোটি টাকা হবে। সবকিছুই আজ ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে পৌঁছিয়েছে এই জোট শাসন। এক তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে বলে জানান বিরোধী দলনেতা। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন রাজ্যটাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আর চোখ না থেকে রাস্তায় নামতে।

