Saturday, December 3, 2022
বাড়িখেলা২০১০ বিশ্বকাপ: আফ্রিকায় স্পেনের জয়গান

২০১০ বিশ্বকাপ: আফ্রিকায় স্পেনের জয়গান

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৭ নভেম্বর: ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে নিজ মহাদেশের বাইরে বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। আগের প্রতিবারই জিতেছিল লাতিন আমেরিকার কোনো দেশ।গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট ইতালি ও ফ্রান্স এবং স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল ছিল নিউ জিল্যান্ড। তিন ড্র করে তারা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। 

২০০৪ সালে সিদ্ধান্ত হয় উনিশতম আসর বসবে আফ্রিকায়। সেখানে মরক্কো ও মিশরকে পেছনে ফেল আয়োজনের দায়িত্ব পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১ জুন থেকে ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে সরাসরি খেলে স্বাগতিকরা। বাছাই পর্ব পেরিয়ে আসে ৩১ দল। যেখানে ইউরোপের ছিল ১৩টি। আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে আসে পাঁচটি করে দেশ। এশিয়া থেকে চারটি, কনমেবল অঞ্চল থেকে তিনটি দল অংশ নেয়। ওশেনিয়া থেকে খেলে নিউ জিল্যান্ড।

প্রথম রাউন্ড

ফরম্যাটে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই ৩২ দল খেলে আট গ্রুপে। প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল যায় দ্বিতীয় রাউন্ডে।

গ্রুপ ‘এ’: ফ্রান্স, উরুগুয়ে, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা

গ্রুপ ‘বি’: আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ কোরিয়া, নাইজেরিয়া, গ্রিস

গ্রুপ ‘সি’: ইংল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, আলজেরিয়া

গ্রুপ ‘ডি’: জার্মানি, ঘানা, অস্ট্রেলিয়া, সার্বিয়া

গ্রুপ ‘ই’: নেদারল্যান্ডস, জাপান, ক্যামেরুন, ডেনমার্ক

গ্রুপ ‘এফ’: ইতালি, স্লোভাকিয়া, প্যারাগুয়ে, নিউ জিল্যান্ড

গ্রুপ ‘জি’: ব্রাজিল, পর্তুগাল, কোত দি ভোয়া, উত্তর কোরিয়া

গ্রুপ ‘এইচ’: স্পেন, চিলি, সুইজারল্যান্ড, হন্ডুরাস

গ্রুপ ‘এ’ থেকে পরের ধাপে যায় উরুগুয়ে ও মেক্সিকো। দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তাদের সঙ্গী হওয়ার লড়াইয়ে ছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকে টিকে যায় মেক্সিকো।

উরুগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র থেকে একটি পয়েন্ট পায় ফ্রান্স।

গ্রুপ ‘বি’ থেকে পরের ধাপে যায় আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ কোরিয়া। তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয় আর্জেন্টিনা। একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয় দক্ষিণ কোরিয়া।

এক জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় গ্রিস। নাইজেরিয়ার অর্জন ১ পয়েন্ট।

বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক হয় একটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে তিন গোল করেন আর্জেন্টিনার গনসালো হিগুয়াইন। 

গ্রুপ ‘সি’ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ড। এক জয় ও দুই ড্রয়ে এই দুই দেশের পয়েন্ট ছিল ৫। গোল পার্থক্যও সমান +১। গোল বেশি করায় গ্রুপ সেরা হয় যুক্তরাষ্ট্র। 

একটি করে জয় ও ড্রয়ে চার পয়েন্ট পায় স্লোভেনিয়া। আলজেরিয়ার অর্জন ১ পয়েন্ট।

গ্রুপ ‘ডি’ থেকে জার্মানি ঘানা দ্বিতীয় রাউন্ডে যায়। দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা জার্মানি। একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে পরের জায়গাটির জন্য লড়াইয়ে ছিল ঘানা ও অস্ট্রেলিয়া। গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া।

এক জয়ে তিন পয়েন্ট পায় স্লোভাকিয়া।

গ্রুপ ‘ই’ থেকে কোয়ার্টার-ফাইনালে যায় নেদারল্যান্ডস ও জাপান। এই গ্রুপে কোনো ম্যাচ ড্র হয়নি। তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় নেদারল্যান্ডস। দুটি জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ জাপান। ক্যামেরুনকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয় ডেনমার্ক।

গ্রুপ ‘এফ’ থেকে কোয়ার্টার-ফাইনালে যায় প্যারাগুয়ে ও স্লোভাকিয়া। এক জয় ও দুই ড্রয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় প্যারাগুয়ে। একটি করে জয় ও ড্রয়ে রানার্সআপ হয় স্লোভাকিয়া।

তিন ড্রয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় নিউ জিল্যান্ড। ফ্রান্সের মতো ইতালিও বিদায় নেয় গ্রুপের তলানিতে থেকে।  গ্রুপ ‘জি’ থেকে  শেষ ষোলোয় যায় ব্রাজিল ও পর্তুগাল। দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয় ব্রাজিল। এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ পর্তুগাল।একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় কোত দি ভোয়া। তিন ম্যাচেই হেরে শূন্য হাতে ফেরে উত্তর কোরিয়া। গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে শেষ ষোলোয় যায় স্পেন ও চিলি। দুটি করে জয় এই দুই দল পায় ৬ পয়েন্ট। গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকে গ্রুপ সেরা হয় স্পেন।একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয় সুইজারল্যান্ড। হন্ডুরাসের প্রাপ্তি ১ পয়েন্ট।  

দ্বিতীয় রাউন্ড

শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হয়: উরুগুয়ে-দক্ষিণ কোরিয়া, ঘানা-যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি-ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস-স্লোভাকিয়া, ব্রাজিল-চিলি, প্যারাগুয়ে-জাপান ও স্পেন-পর্তুগাল।২৬ জুন প্রথম ম্যাচে লুইস সুয়ারেসের জোড়া গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ গোলে হারায় উরুগুয়ে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো পরের ম্যাচে একই ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রকে হারায় ঘানা।পরদিন ইংল্যান্ডকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় জার্মানি। টমাস মুলার করেন জোড়া গোল, একটি করে লুকাস পোডলস্কি ও মিরোস্লাভ ক্লোসা। অন্য ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। জোড়া গোল করেন কার্লোস তেভেস, অন্যটি হিগুয়াইন।২৮ জুনের প্রথম ম্যাচে স্লোভাকিয়াকে ২-১ গোলে হারায় নেদারল্যান্ডস। পরের ম্যাচে চিলিকে  ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। একটি করে গোল করেন জুয়ান, লুইস ফাবিয়ানো ও রবিনিয়ো।পরদিন টাইব্রেকারে জাপানকে ৫-৩ গোলে হারায় প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচ গোলশূন্য ড্র ছিল। পরের ম্যাচে দাভিদ ভিয়ার একমাত্র গোলে পর্তুগালকে বিদায় করে স্পেন।

কোয়ার্টার-ফাইনাল

শেষ আটে মুখোমুখি হয়: নেদারল্যান্ডস-ব্রাজিল, উরুগুয়ে-ঘানা, আর্জেন্টিনা-জার্মানি ও স্পেন-প্যারাগুয়ে।২ জুলাইয়ের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় নেদারল্যান্ডস। দশম মিনিটে রবিনিয়ো এগিয়ে নেন পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ভেসলি স্নেইডারের জোড়া গোলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেমি-ফাইনালে যায় নেদারল্যান্ডস।পরের ম্যাচে দারুণ লড়াই উপহার দেয় উরুগুয়ে ও ঘানা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ সমতায়। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে নিশ্চিত গোল বাঁচাতে গোললাইন থেকে হাত দিয়ে ফিরিয়ে দেন সুয়ারেস! তিনি দেখেন লাল কার্ড, পেনাল্টি পায় ঘানা। সেটি কাজে লাগাতে পারেনি আফ্রিকার দেশটি। পরে টাইব্রেকারে হেরে যায় ৪-২ ব্যবধানে।পর দিনের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় জার্মানি। জোড়া গোল করেন ক্লোসা, একটি করে মুলার ও আর্নে ফ্রিডেরিক। পরের ম্যাচে ভিয়ার একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারায় স্পেন।

সেমি-ফাইনাল

৬ জুলাই কেপটাউনে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে উরুগুয়েকে ৩-২ হোলে হারায় নেদারল্যান্ডস। তৃতীয়বারের মতো যায় ফাইনালে। পরদিন কার্লোস পুয়োলের একমাত্র গোলে জার্মানিকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে যায় স্পেন।তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে উরুগুয়েকে ৩-২ গোলে হারায় জার্মানি। এতে টানা দুই আসরে তৃতীয় হয় তারা। 

ফাইনাল

১১ জুলাই, ২০১০। জোহানসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে লড়াইয়ে নামে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। দুই দলের সামনেই সুযোগ ছিল অষ্টম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার।দুই দলই খেলে অতি সাবধানী ফুটবল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের খেলাও শেষের দিকে ছিল। মনে হচ্ছিল মীমাংসা হবে টাইব্রেকারেই। ১১৬তম মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা দারুণ এক গোলে গড়ে দেন ব্যবধান।সেই গোলেই প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে স্পেন। প্রথম অংশ নেওয়ার ৭৬ বছর পর হাতে নেয় ট্রফি।মাত্র ৮ গোল করে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর পর গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে দেয় দুটি করে গোল। নক আউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচ জেতে ১-০ গোলে!

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য