স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ সেপ্টেম্বর : পাঁচ মাসের বেশি গর্ভস্থ ভ্রূণ আইনের চোখে একজন ‘ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য হবে। দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে আইনের চোখে তা সন্তানের মৃত্যু বা একটি স্বাধীন জীবনের ক্ষতি হিসেবে গণ্য হবে। ফলে পরিবার পৃথক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবে। এলাহাবাদ হাই কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে এই মন্তব্য করেছে।
এলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার এই আদেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস পার হওয়ার পর একটি ভ্রূণ যথেষ্ট বিকশিত রূপ লাভ করে। ফলে দুর্ঘটনায় সেই ভ্রূণের মৃত্যু হলে, ভুক্তভোগী পরিবার মায়ের মৃত্যুর পাশাপাশি অনাগত সন্তানের মৃত্যুর জন্যও পৃথক আইনি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবে। উচ্চ আদালত লখনউয়ের রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের ২০২৩-এর ২৬ সেপ্টেম্বরের আদেশটি বাতিল করে দিয়েছে এবং ট্রেন থেকে পড়ে মারা যাওয়া এক মহিলার গর্ভে থাকা সাত মাস বয়সি ভ্রূণের মৃত্যুর জন্য রেলওয়েকে অতিরিক্ত ৮ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ জুন ওই মহিলা তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে সীতাপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিসওয়ান স্টেশনগামী জন সাধারণ এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করছিলেন। বিসওয়ান স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার সময় তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এবং তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং গর্ভস্থ শিশুটিও মারা যায়।
তাঁর পরিবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে রেলওয়ে দাবি ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল জানায়, রেলওয়ে আইন অনুযায়ী ভ্রূণকে একজন পৃথক যাত্রী হিসেবে গণ্য করা যায় না। তাই অনাগত শিশুটির জন্য পৃথক ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু হাই কোর্ট বলেছে, একটি নির্দিষ্ট স্তর (পাঁচ মাস বা ২০ সপ্তাহ) পার করার পর মাতৃগর্ভের ভ্রূণ আইনিভাবে একজন ‘ব্যক্তি’ বা স্বাধীন সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তাই কোনও ট্রেন বা সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সঙ্গে ভ্রূণের মৃত্যু হলে, রেলওয়ে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভ্রূণের মৃত্যুকে মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পারে না। অনাগত সন্তানের জন্য পরিবারকে পৃথকভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান