স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
২৭ সেপ্টেম্বর : যে প্রতিশ্রুতি ৪০ লক্ষ রাজ্যবাসীর রেখে ক্ষমতায়
রয়েছে দীর্ঘ সাড়ে আট বছর ধরে, সেই প্রতিশ্রুতি পালন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ। বরং, রাজনৈতিক
ফায়দা কিভাবে হাসিল করা যায় সেই সুযোগকে হাতিয়ার করে জনগণকে কাজে লাগাতে চাইছে।
রবিবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন কি বাত শ্রবণ অনুষ্ঠান ঘিরে যখন রাজ্যের
মন্ডলে মন্ডলে চলছিল কর্মসূচি সেই সময় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার
ডি ওয়াই এফ আই-র কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় বাধার মুখে পড়লেন। এই ঘটনায় অভিযোগের কাঠগড়ায়
শাসক দল বিজেপির যুব মোর্চার কর্মী সমর্থকরা। রবিবার বামুটিয়ার কালিবাজারে ভারতের গণতান্ত্রিক
যুব ফেডারেশন মোহনপুর মহকুমা কমিটির সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কালিবাজারের একটি নির্দিষ্ট
হল ঘরে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা
হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। সেই মোতাবেক আগরতলা
থেকে মানিক সরকার বামুটিয়ার কালিবাজার সম্মেলন স্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। মানিক সরকারের
কনভয় কালিবাজারে পৌঁছানোর পর যুব মোর্চার এক দল কর্মী সমর্থক মানিক সরকারের কনভয় ঘেরাও
করে কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি গো-ব্যাক স্লোগান দিতে থাকে ক্ষমতাসীন দলের প্রাক্তন
বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস এবং বর্তমান মন্ডল সভাপতি নেতৃত্বে কর্মী সমর্থকরা বলে অভিযোগ।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়ির পেছনে ঢিল ছুড়ে, এমনকি পশ্চিমবঙ্গের ডিমের
সংস্কৃতিকে আগলে ধরে ডিম ছোঁড়া হয়। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে বামপন্থী যুব সংগঠনের
কর্মী সমর্থকরা। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ঘটনার খবর পেয়ে
মোহনপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে বিশাল আরক্ষা বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।
এবং যুব মোর্চার কর্মী সমর্থকদের সেখান থেকে জোর পূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়।
তারপর মানিক সরকার সম্মেলন স্থলে যান। বাম বিধায়ক
নয়ন সরকার জানান ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন মোহনপুর মহকুমা কমিটির সম্মেলন পূর্ব
নির্ধারিত একটি কর্মসূচি। সেই সম্মেলনে যোগদান করতে আসেন মানিক সরকার। কিন্তু যুব মোর্চার
দুষ্কৃতিরা মানিক সরকারের গাড়িকে বাধাদান করছে। যাতে করে মানিক সরকার সমাবেশ স্থলে
যেতে না পারেন। তিনি আরো বলেন মন্ডল সভাপতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। যুব মোর্চার স্লোগান
দিয়ে গাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে তারা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, যারা এদিন
আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে তারা আমাদের শত্রু নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর তাদের
সঙ্গে আমাদের কথা বলতে হবে। তিনি স্বীকার করেছেন পুলিশের ভূমিকা সেখানে ভারত ছিল। সম্মেলন
শেষে তিনি বলেন, বাঁধা উপেক্ষা করে যথারীতি সম্মেলন হয়েছে। এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত
মন্ডল সভাপতি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করলেন। তিনি বললেন বাজারে এসে তিনি উত্তপ্ত
পরিস্থিতি দেখে এলাকাবাসীকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে মানিক সরকারকে কর্মসূচিতে যেতে সহযোগিতা
করেছেন। তবে এদিন যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে তারা এলাকার বাসিন্দা। তারা এদিন রোজভ্যালির
টাকা কোথায় গেছে সেই দাবি করেছেন, একইসঙ্গে ১০,৩২৩ চাকুরিচ্যুত হওয়ার মূল নায়ক কে
ছিলেন? এই একাধিক বিষয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কাছে জানতে চেয়েছেন। এদিকে এলাকার আন্দোলনকারী
এক মহিলাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সঠিকভাবে বলতে পারছিলেন না মানিক সরকার নাকি মানিক
সাহা ওনার এলাকায় গেছেন? শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের কথার বেড়াজালে আটকে বলেন, মানিকবাবু
গেছেন এলাকায়। তাই রোজভ্যালির টাকা নিয়ে প্রশ্ন করতে গেছেন। এই ঘটনার পর রাজ্যের
বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, পুলিশের সামনে এই ঘটনা
সংঘটিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে আগে থেকেই
ছিলেন। তারপরও কিভাবে এই ঘটনা সংগঠিত হয়েছে, প্রশ্নের কাঠগড়ায় তোলেন পুলিশকে। প্রাক্তন
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে দলের যুব সংগঠনের কর্মসূচিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বাঁধা দানের
বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে সুদীপ রায় বর্মন বলেন এই ঘটনা নিন্দা জনক।
রাজনৈতিক ভাবে যার যার মতাদর্শ ভিন্ন হতেই পারে। তাই বলে শাসন ক্ষমতায় রয়েছেন বলে যা
কিছু করা যাবে। রাজ্যে গণতন্ত্র নেই। জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। পায়ের তলার মাটি
হারিয়ে ফেলেছে বিজেপি। তাই তারা বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের উপর আক্রমণ শুরু করেছে।
এইসব করে কংগ্রেস বা সিপিআইএম-কে আটকানো যাবে না। এইদিন বাম যুব সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা
যে ভাবে যুব মোর্চার দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে পাল্টা রুখে দাঁড়িয়েছে, তাতে করে সেখানে
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে যেতে পারত, যদি আরক্ষা প্রশাসন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করতো।
আরক্ষা প্রশাসন এইদিন সময় উপযোগী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে বড় ধরনের ঘটনা এড়ানো
সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, যারা রোজভেলি এবং ১০,৩২৩ এর জন্য দায়ী তারা পাপের প্রায়শ্চিত্ত
করেছেন ২০১৮ সালে। জনগণ ভরসা হারিয়েছে তাদের উপর থেকে দীর্ঘ সাড়ে আট বছর আগেই। কিন্তু
বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ২০১৮ সালে রোজভ্যালি এবং ১০,৩২৩ প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে ক্ষমতায়
এসেছে। গত সাড়ে আট বছরে এই ঘটনাগুলি সুষ্ঠু বিচার হয়েছে কিনা জানতে চায় নিরপেক্ষ
জনগণ।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান