স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে নতুন করে অপসারণ বা অভিশংসন প্রস্তাব অর্থাৎ ইমপিচমেন্ট মোশন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। কিন্তু, দেশের প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলির ভিত্তিতে ইমপিচমেন্টের সাংবিধানিক কারণ তৈরি হয় না।
এক সর্বভারতীয় চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহতগি বলেন, সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং দৃঢ় তথ্য-প্রমাণহীন কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা যায় না। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা মানেই তা কোনও অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের প্রমাণ নয়। বরং গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক।
রোহতগির যুক্তি, এই ধরনের আভ্যন্তরীণ বিষয়কে সরাসরি ‘দুর্ব্যবহার’ হিসাবে দেখা যায় না। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে, আইনের দৃষ্টিতে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনও জানিয়েছে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ছিল এবং আভ্যন্তরীণ পর্যায়ে মতামত বা পর্যবেক্ষণকে আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত হিসাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।
রোহতগি আরও বলেন, তিন সদস্যের কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভোট অন্য দুই কমিশনারের তুলনায় বেশি নয়। অর্থাৎ, তিন সদস্যের প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও বিষয়ে দুই কমিশনার যদি সিইসি-র সঙ্গে একমত না হন এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমত হিসেবে নথিভুক্ত করেন, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই কমিশনের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।
তিনি সুপ্রিম কোর্টের বহু-বিচারপতির বেঞ্চের উদাহরণও দেন। বিচারপতিদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ই আদালতের সিদ্ধান্ত হিসাবে কার্যকর হয়। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের আভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে শুধুমাত্র সেই কারণে অসদাচরণ হিসাবে গণ্য করা যায় না বলে মত রোহতগির। কেরলার প্রাক্তন মুখ্যসচিব জিজি থমসনের দাবি, ২০১৬ সালে জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে বিজেপির টিকিটে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান