নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই (হি.স.): নিট প্রশ্নফাঁস এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনের তৃতীয় দিনেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হল। বুধবার বিরোধীদের হইহট্টগোলে বারবার ব্যাহত হয় লোকসভা ও রাজ্যসভার কাজকর্ম। প্রথমে দুপুর ১২টা এবং পরে দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয় দুই কক্ষের অধিবেশন।
দুপুর ১২টায় লোকসভার অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে নিট প্রশ্নফাঁস এবং ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে হইচই শুরু হয়। এই সময় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কংগ্রেস এবং সরকারপক্ষকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন। কিন্তু সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব এতে ক্ষুব্ধ হন।
সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে অখিলেশ যাদব বলেন, ‘‘আপনি এঁদের এবং ওঁদের কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের কী? কংগ্রেস ও সরকারের মধ্যে কোনও ডিল হয়ে যায়নি তো?’’ তিনি বলেন, এই বিষয়টি কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি বা বিজেপির বিষয় নয়—এটি দেশের পড়ুয়াদের বিষয়।
এর আগে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, গত তিন দিন ধরে সরকার বিরোধীদের নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, সরকার নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে সংসদে আলোচনা নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনেই হয় এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হয়।
রিজিজু বলেন, আলোচনা কখন হবে, কতক্ষণ চলবে এবং কোন নিয়মের অধীনে হবে—এই বিষয়ে লোকসভার স্পিকার সমস্ত দলের ফ্লোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারকে জানালে সরকার সেই অনুযায়ী আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, সব পক্ষই আলোচনা চাইছে এবং সরকারও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু এভাবে সংসদের গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। এরপরই অখিলেশ যাদব স্পিকারের বিরুদ্ধে তাঁকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুর ২টো পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
এদিকে, রাজ্যসভাতেও নিট প্রশ্নফাঁস এবং আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের হইহট্টগোল অব্যাহত থাকে। এর জেরে রাজ্যসভার অধিবেশনও প্রথমে দুপুর ১২টা এবং পরে দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়। এদিন সংসদ চত্বরে মকর দ্বারের কাছেও কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদরা বিক্ষোভ দেখান।

