রায়পুর, ৫ জুলাই (হি.স.) : প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী ও পদ্মবিভূষণ সম্মানপ্রাপ্ত তীজন বাই প্রয়াত। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রবিবার ভোর ৩টা ১৫ মিনিটে রায়পুরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। গত ২৭ মে থেকে তিনি এইমসে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। রবিবার এইমসে পৌঁছে তীজন বাইয়ের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান তিনি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তীজন বাই আর আমাদের মধ্যে নেই। তিনি পাণ্ডবাণী গানের এক প্রবাদপ্রতিম শিল্পী ছিলেন। পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ-সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। তাঁর প্রতি আমরা বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এবং ঈশ্বরের কাছে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। তীজন বাই ছিলেন ছত্তিশগড়ের গর্ব ও সম্মান। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।”
ছত্তিশগড়ের ঐতিহ্যবাহী মহাভারতভিত্তিক লোকগাথা ‘পাণ্ডবাণী’-কে দেশ-বিদেশে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে তীজন বাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর শক্তিশালী কণ্ঠ, নাটকীয় উপস্থাপনা এবং অসামান্য অভিনয়শৈলী পাণ্ডবাণীকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়।
১৯৫৬ সালের ২৪ এপ্রিল দুর্গ জেলার গনিয়ারি গ্রামে তাঁর জন্ম। ছোটবেলা থেকেই মহাভারতের কাহিনির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। এমন এক সময়ে, যখন মহিলাদের পাণ্ডবাণীর ‘কাপালিক’ শৈলীতে পরিবেশন সমাজে প্রায় অগ্রহণযোগ্য ছিল, তখন সমস্ত সামাজিক বাধা অতিক্রম করে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করেন তীজন বাই। পরবর্তীকালে তিনিই এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি শুধু ভারতের বিভিন্ন প্রান্তেই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং জার্মানি-সহ বিশ্বের বহু দেশে পাণ্ডবাণী পরিবেশন করে ছত্তিশগড়ের লোকঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেন।
ভারতীয় লোকশিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৮ সালে পদ্মশ্রী, ১৯৯৫ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার, ২০০৩ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০১৯ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন তিনি।
তীজন বাই প্রয়াত হলেও তাঁর সমৃদ্ধ শিল্পঐতিহ্য এবং পাণ্ডবাণীকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার অবদান ভারতীয় লোকসংস্কৃতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

