Saturday, August 8, 2026
বাড়ি জাতীয় ২০৩০-এর মধ্যে বাল্যবিবাহমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে একজোট সাংসদরা

২০৩০-এর মধ্যে বাল্যবিবাহমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে একজোট সাংসদরা

২০৩০-এর মধ্যে বাল্যবিবাহমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে একজোট সাংসদরা

নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ (হি.স.) : দেশ থেকে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘বাল্যবিবাহমুক্ত ভারত’ গড়ার উদ্দেশ্যে একজোট হলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২০-রও বেশি সাংসদ। ‘এমপিজ ফর চিলড্রেন’ ব্যানারের অধীনে এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে শিশু অধিকার রক্ষায় দেশের বৃহত্তম নেটওয়ার্ক ‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন’, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২৫০-রও বেশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

‘ডায়ালগ উইথ পার্লামেন্টেরিয়ান্স অন অ্যাচিভিং চাইল্ড ফুল পোটেনশিয়াল’ শীর্ষক আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং ‘এমপিজ ফর চিলড্রেন’-এর সমন্বয়ক লাভু শ্রীকৃষ্ণ দেবরায়ুলু বলেন, বাল্যবিবাহ কোনও নির্দিষ্ট দল বা ধর্মের বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। তিনি বলেন, পোলিও নির্মূল বা শিক্ষার প্রসারের মতোই সম্মিলিত প্রয়াসে বাল্যবিবাহও নির্মূল করা সম্ভব।

তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন (পিসিএমএ), ২০০৬-কে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন এবং এ সংক্রান্ত একটি ব্যক্তিগত বিল লোকসভায় পেশ করেছেন বলেও জানান। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কঠোর শাস্তির বিধান, বিশেষ বাল্যবিবাহ নিষেধ আধিকারিক নিয়োগ, বিশেষ আদালত গঠন এবং একটি ডিজিটাল রিপোর্টিং পোর্টাল তৈরির কথা বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। পাশাপাশি, শিশুদের সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ভুবন রিভু সাংসদদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিশু সুরক্ষা শুধুমাত্র সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, সংসদ ও প্রশাসনের মধ্যে এই ইস্যুগুলি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ‘বাল্যবিবাহমুক্ত ভারত দিবস’ ঘোষণা করা, যা এই অপরাধ নির্মূলের গুরুত্বকে আরও জোরালো করবে এবং সমাজের সব স্তরে দায়বদ্ধতা বাড়াবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, বাল্যবিবাহ বিরোধী সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে বৃহৎ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ‘বাল্যবিবাহ মুক্তি রথ’ অভিযানের মাধ্যমে ২৮টি রাজ্য এবং ৪৩৯টি জেলায় ৫০০-রও বেশি রথ ঘুরেছে। এই অভিযানে ১০৪-রও বেশি সাংসদ নিজ নিজ এলাকায় অংশগ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি, দুই মুখ্যমন্ত্রী, তিন উপমুখ্যমন্ত্রী, একাধিক বিধায়ক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন।

এই সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে আগামী দিনে বাল্যবিবাহ নির্মূলে আরও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha