নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (হি.স.): জীবনে কৌতূহল বাঁচিয়ে রাখুন, শেখার আগ্রহকে জাগ্রত রাখুন, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শনিবার এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, "না ভেবে বা না বুঝেই যেসব বিষয় মেনে নেওয়া হয়—সেগুলোকে যাচাই করুন, সেগুলির ব্যাপারে প্রশ্ন তুলুন। তবে কেবল প্রশ্ন করেই থেমে থাকবেন না; সেগুলির সমাধান খোঁজার সাহসও রাখুন। এই মানসিকতাই আপনার স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলবে।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজি দিল্লির ৫৭-তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি ৩ হাজারেরও বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৮৭ জন গবেষকও রয়েছেন, যাদের এই অনুষ্ঠানে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে ‘প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল’, ‘ডিরেক্টরস গোল্ড মেডেল’, ‘শঙ্কর দয়াল শর্মা গোল্ড মেডেল’ এবং ‘পারফেক্ট টেন গোল্ড মেডেল’ পুরস্কার তুলে দেন।
এছাড়াও অত্যাধুনিক গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে ভারতের অঙ্গীকারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী আইআইটি দিল্লির সোনিপত ক্যাম্পাসে স্থাপিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সুপারকম্পিউটিং সুবিধা ‘পরম প্রজ্ঞা’-র উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রজন্মকেই নিজস্ব কিছু চ্যালেঞ্জ ও জাতীয় দায়িত্বের মুখোমুখি হতে হয়। একসময় আমাদের দেশকে ঔপনিবেশিক শাসনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছিল; তখন একটি পুরো প্রজন্মের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভারতের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য তারা অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন এবং দীর্ঘ সংগ্রাম করেছিলেন। তাঁদের নিষ্ঠা, ত্যাগ ও সাহসিকতার ফলেই এখন আমরা এক স্বাধীন ভারতে বাস করছি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের সামনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা ভিন্ন, এবং সেই অনুযায়ী আমাদের দায়িত্বও আলাদা।'" প্রধানমন্ত্রীর কথায়, "আগামী ৩০-৩৫ বছরে আপনারা যা করবেন, তা-ই ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে ভারতের যাত্রাপথকে গড়ে তুলবে। তাই, প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনাদের এটাও বিবেচনা করা উচিত: এর ফলে দেশের কী লাভ হবে? এটি কোন জাতীয় প্রয়োজন মেটাবে? এখন ভারত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র থেকে শুরু করে শিল্প—সর্বক্ষেত্রেই আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান