স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ০৭ ফেব্রুয়ারি : ইসলামাবাদে মসজিদের বাইরে আত্মঘাতী বোমারুর হামলায় এখনও পর্যন্ত ৬৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলিছে। আহতের সংখ্যা অন্তত ১৬৯। এই ঘটনায় এবার ভারতকে কাঠগড়ায় তুলল পাকিস্তান। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা মহম্মদ আসিফ দাবি করেন, এই হামলার নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, হামলাকারীর আফগানিস্তানে যাতায়াত ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘ওই আত্মঘাতী জঙ্গি একাধিকবার পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে গিয়েছিল। তার সঙ্গে তালিবানের সরাসরি যোগ ছিল। আমাদের কাছে তথ্যপ্রমাণও রয়েছে।’ এরপরই ভারতকে নিশানা করে খোয়াজা দাবি করেন, এই হামলার নেপথ্যে ভারতেরও হাত রয়েছে। ভারত এবং আফগানিস্তান একযোগে এই ষড়যন্ত্র করেছে। তাঁর আরও দাবি, ভারত পাকিস্তানের কাছে হেরে গিয়েছে। ভারতের সাহস নেই লড়াই করার। তাই পিছন থেকে এধরনের হামলা চালাচ্ছে।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। শুক্রবার রতেই বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ইসলামাবাদের মসজিদে এই হামলা নিন্দনীয়। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তার জন্য সমবেদনা জানাই। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে সন্ত্রাসবাদ-সহ পাকিস্তান তার নিজের সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করার পরিবর্তে, অন্যকে দোষারোপ করে বেড়াচ্ছে। এই হামলায় পাকিস্তান ভারতকে নিয়ে যে দাবি করছে তা আমরা খারিজ করছি। এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন।’
খোয়াজার দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারও। পাকিস্তানের এহেন আচরণকে তারা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও উল্লেখ করেছেন। তালিবানের তরফে জানানো হয়েছে, ইসলামাবাদ কোনও প্রমাণ ছাড়া উপযুক্ত তদন্ত না করেই দেশের অন্দরে বিভিন্ন হামলা নিয়ে আফগানিস্তানকে দায়ী করে আসছে। এগুলি যুক্তিহীন। পাকিস্তান নিজের দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি গুলি থেকে নজর ঘোরাতেই এধরনের কার্যকলাপ করছে।
শুক্রবার দুপুরে ইসলামাবাদের শেহজাদ এলাকার তরলাই ইমামবারগা মসজিদের সামনে আচমকা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ২৪ জনের মৃত্যুর খবর মিললেও পরে তা লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এই ঘটনার পরেই শহর জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন ইসলামবাদ পুলিশের আইজি। নিরাপত্তাবাহিনীর আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে এক পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার সময় বহু মানুষ মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন। সেই সময় মসজিদের ভিতরেই প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন হামলাকারী। কিন্তু তাকে গেটেই আটকে দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। কিন্তু তা সত্ত্বেও হামলা আটকানো যায়।

