Monday, May 16, 2022
বাড়িবিশ্ব সংবাদমিয়ানমারে নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলায় দায়ী ‘বিশেষ নেতৃত্ব’: তদন্ত প্রতিবেদন

মিয়ানমারে নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলায় দায়ী ‘বিশেষ নেতৃত্ব’: তদন্ত প্রতিবেদন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৪ মার্চ। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী যেভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে তার পেছনে একটি ‘বিশেষ নেতৃত্ব’ (স্পেশাল কমান্ড) দায়ী বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার বিষয়ক তদন্ত কর্মকর্তারা।

গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। ক্ষমতা দখলের পরদিনই জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং একটি ‘বিশেষ নেতৃত্ব’ গঠন করেন।রাজধানী নিপিধোতে হ্লায়িং এর এই নতুন কমান্ড পরিচালনায় ছিলেন তার চার শীর্ষ জেনারেল। তারা ছাড়া শহর-নগরে মোতায়েন সেনাদের অভিযানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আর কারও ছিল না।এই বিশেষ কমান্ডই শহর অঞ্চলে সেনা মোতায়েনসহ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সেনাদেরকে দমন-পীড়ন চালানো এমনকী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফর্টিফাই রাইটস এবং ইয়েল ল স্কুলের শেল সেন্টার যৌথভাবে এই তদন্ত পরিচালনা করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দূর থেকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের আতঙ্কিত করতে বিশেষ কমান্ড স্নাইপার মোতায়েন করেছিল।অন্যদিকে, সেনাসদস্যদের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাদের হাতে একটি দিকনির্দেশিকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে যুদ্ধের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে কোনও নির্দেশনা ছিল না।তদন্ত কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার ১৯৩ পাতার তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। বিভিন্নভাব ফাঁস হওয়া তথ্য এবং ১২৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

যারা সাক্ষী দিয়েছেন তাদের মধ্যে আহত আন্দোলনকারী, চিকিৎসাকর্মী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং সাবেক সেনা ও পুলিশ সদস্য রয়েছেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী ছয় মাস মিয়ানমারে কী কী ঘটেছে তারা সে সম্পর্কে বলেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, তারা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে পুলিশকে দেওয়া কিছু অভ্যন্তরীন লিখিত নির্দেশিকার অনুলিপি হাতে পেয়েছেন। ওই নির্দেশিকায় পুলিশকে বিক্ষোভকারী, আন্দোলনকর্মী এবং উৎখাত হওয়া ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করার আদেশ দেয়া হয়।যারা মারধর এবং অন্যান্য নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাদের সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতকারকদের একজন এবং ফর্টিফাই রাইটস এর প্রধান ম্যাথু স্মিথ বলেন, ‘‘যারা ওই সব অপরাধ কাণ্ডের জন্য দায়ী তাদের সবাইকে সাজা দিতে হবে বা বিচারের আওতায় আনতে হবে।”এ বিষয়ে জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

‘নোহয়্যার ইজ সেফ’ শিরোনামের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ৬১ জন সেনা ও পুলিশ কমান্ডারের নাম উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের তদন্ত করা উচিত বলেও মত দিয়েছেন।তাদের মধ্যে ছয় সেনা কর্মকর্তা এখনও দায়িত্বরত। যাদের একজন কর্নেল এবং দুই জন মেজর পদমর্যাদার।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য