Tuesday, July 16, 2024
বাড়িবিশ্ব সংবাদঅস্ট্রেলিয়ায় গিরগিটি-সদৃশ আদি প্রজাতির সন্ধান

অস্ট্রেলিয়ায় গিরগিটি-সদৃশ আদি প্রজাতির সন্ধান

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১০ আগস্ট : বিজ্ঞানীরা ২৪ কোটি ৭০ লাখ বছর আগের গিরগিটির মত দেখতে একটি উভয়চর প্রাণী শনাক্ত করতে পেরেছেন। যেগুলো একসময় অস্ট্রেলিয়া জুড়ে বিচরণ করত।এর মধ্য দিয়ে ৯০ এর দশক থেকে গবেষকদের ধাঁধার মধ্যে রাখা একটি রহস্যের সমাধানও খুঁজে পাওয়া গেল। ওই সময় নিউ সাউথ ওয়েলসের একজন অবসরপ্রাপ্ত মুরগির খামারির অচেনা প্রাণীর জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে যে রহস্যের সূত্রপাত হয়েছিল।সারা বিশ্বে এই প্রাণীটির ১০টির কম জীবাশ্ম এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া গেছে বলে জানায় বিবিসি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই আবিষ্কারের ফলে হয়ত ‘অস্ট্রেলিয়ায় উভয়চর প্রাণীর বিবর্তনের ইতিহাস পুনরায় লিখতে হবে’।প্রায় তিন দশক আগে উমিনার বাসিন্দা মিহাইল মিহাইলদিসের বাগানের দেয়াল ভেঙে গেলে সেটা ঠিক করতে গিয়ে অসাধারণ ওই জীবাশ্মটি খুঁজে পাওয়া যায়। সিডনি থেকে সড়কপথে উমিনা যেতে সময় লাগে ৯০ মিনিট।অবসরপ্রাপ্ত মুরগির খামারি মিহাইলদিস দেয়াল ঠিক করতে ১ দশমিক ৬ টন ওজনের বেলেপাথরের একটি স্লাব কিনে নিয়ে আসেন। কিন্তু তিনি যখন পাথরটির বাইরের লেয়ার ভাগ করতে শুরু করেন তখন আপনা আপনি একটি অজানা প্রাণীর জীবাশ্ম বেরিয়ে আসে।তিনি সময় নষ্ট না করে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষকে তার আবিষ্কার সম্পর্কে জানান এবং ১৯৯৭ সালে জীবাশ্মটি মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন।

মিউজিয়ামের জলবায়ু-নিয়ন্ত্রিত একটি কক্ষে ওই জীবাশ্মটি প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়। জীবাশ্মবিদ লাখলান হার্ট শেষ পর্যন্ত ওই জীবাশ্ম ডিকোড করেন। শিশু বয়সে যিনি জীবাশ্মটি প্রথমবার দেখেছিলেন।হার্ট বলেন, “আমি ডাইনোসরের প্রতি মোহগ্রস্ত ছিলাম…এবং ১৯৯৭ সালে ১২ বছরের আমি প্রথম মিউজিয়ামে ওই জীবাশ্মটি দেখি। তার ঠিক ২৫ বছর পর এটি আমার পিএইচডি-র অংশ হয়, যা অবিশ্বাস্য।”হার্ট এবং তার দল ২৫ কোটি বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার ট্রায়াসিক যুগের জীবন নিয়ে গবেষণা করছিল। হার্ট বলেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে’ শনাক্ত করার জন্য তাদের ওই জীবাশ্মটিই দেওয়া হয়েছিল।“এখানে উল্লেখ করার মত বিষয় হল, জীবাশ্মটিতে প্রায় পুরো কঙ্কালটিই ছিল। বলতে গেলে, পুরোপুরি অক্ষত।“এটির মাথা বাকি শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং এটির চামড়া ও শরীরের বাইরের অংশে থাকা ফ্যাটি টিস্যুও জীবাশ্মে পরিণত হয়েছে..এ সব কিছুই বলছে, এ এক বিরল আবিষ্কার।”

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য