Monday, February 26, 2024
বাড়িবিশ্ব সংবাদঅশান্ত পশ্চিম তীরে এবার গুলিতে ইসরায়েলি-আমেরিকান নিহত

অশান্ত পশ্চিম তীরে এবার গুলিতে ইসরায়েলি-আমেরিকান নিহত

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক,২৮ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিম তীরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের তুমুল উত্তেজনার মধ্যে এবার এক ইসরায়েলি-আমেরিকান গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।জেরিকো শহরের কাছে একটি মহাসড়কে যানবাহন লক্ষ্য করে চালানো এক হামলায় ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন, প্যারামেডিকরা তাকে জেরুজালেমের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।বিবিসি জানিয়েছে, রোববার রাতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের একাধিক গ্রামে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কয়েক ডজন গাড়ি ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার পর ওই ইসরায়েলি-আমেরিকানের ওপর এই গুলির ঘটনা ঘটল।ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার আগে রোববারই কাছাকাছি একটি গ্রামে এক ফিলিস্তিনির গুলিতে দুই বসতি স্থাপনকারী নিহত হয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম নিডস টুইটারে বলেছেন, “দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আজ (সোমবার) রাতে পশ্চিম তীরে এক সন্ত্রাসী হামলায় এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। আমি তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি।”ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হামলাকারীরা তিন বার ইসরায়েলি যানবাহনের ওপর হামলা চালানোর পর নিজেরাই নিজেদের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।পালিয়ে যাওয়ার আগে হামলকারীদের সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময়ও হয়েছে, বলেছেন আইডিএফ।এখন পর্যন্ত কোনো ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।সশস্ত্র ইসলামী গোষ্ঠী হামাস গাজা ভূখণ্ডে শক্তিশালী হলেও, পশ্চিম তীরে তাদের প্রভাব নগণ্য। তারা বলেছে, সোমবার যে হামলা হয়েছে, তা ইসরায়েলি হামলার পাল্টায় স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

“দখলদার ও বসতি স্থাপনকারীর পাল সেখানে যেসব অপরাধ করে যাচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়াতেই ছুরিকাঘাত, গুলি ও গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে,” বিবৃতিতে বলেছেন হামাসের এক মুখপাত্র।জর্ডানে এক সম্মেলনে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা উত্তেজনা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর পশ্চিম তীরে এসব সহিংসতা দেখা যাচ্ছে। রোববার ওই সম্মেলন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর প্রকাশিত ভিডিওতে বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীকে নাবলুসের ৬ কিলোমিটার দক্ষিণের গ্রাম হাওয়ারায় ঢুকে আগুন জ্বালাতে ও পাথর ছুড়তে দেখা গেছে।ওই রাতেই জাতারায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সময় পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে সামেহ আকতাশ নামে নামে ৩৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয় বলে জানায় ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।পশ্চিম তীরের এই অংশটি পুরোপুরি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে হলেও ইসরায়েলি নিরাপত্তা রক্ষীরা সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ বলে অভিযোগ ফিলিস্তিনিদের।“ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর দেওয়া সুরক্ষা নিয়ে ইসরায়েল বসতি স্থাপনকারীরা যেসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে তার জন্য ইসরায়েলি সরকার পুরোপুরিভাবে দায়ী,” বলেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বসতি স্থাপনকারীদের সংযত থেকে দুই ইসরায়েলিকে খুন করা বন্দুকধারীকে ধরতে ইসরায়েলি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সুযোগ করে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।“আমি বলছি, যখন রক্ত ফুটতে থাকে, মেজাজ গরম থাকে, তখন আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না,” এক ভিডিও বার্তায় এমনটাই বলেছেন তিনি।ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা নাবলুসের দুই কিলোমিটারের মতো দূরে অবস্থিত হার ব্রাচা এলাকায় বসবাসকারী দুই ভাই হিলেল ও ইয়াগেল ইয়ানিভের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ‘প্রতিশোধ নিতে’ হাওয়ারায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছিল।  দুই ভাই হাওয়ারার ভেতর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি তাদের গাড়িতে ধাক্কা মারে ও পরে একাধিকবার দুজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। 

কোনো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে হামলাকারীর গায়ে যে শার্ট ছিল, তাতে নাবলুসভিত্তিক লায়নস ডেনের প্রতীক ছিল বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হচ্ছে।নাবলুসে গত বুধবার এই গোষ্ঠীটির সদস্যদের ধরতে চালানো ইসরায়েলি বাহিনীর এক অভিযানে বেসামরিক ব্যক্তিসহ ১১ জন নিহত হয়েছিল। ২০০৫ সালের পর পশ্চিম তীরে আর কখনোই কোনো অভিযানে এত প্রাণহানি দেখা যায়নি। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্য, ফিলিস্তিনিদের হামলার তোড় কমানোর চেষ্টায় তারা নাবলুস ও কাছের শহর জেনিনে একের পর এক অভিযান, গ্রেপ্তার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে সশস্ত্র যোদ্ধা ও বেসামরিক মিলিয়ে ষাটের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।বিভিন্ন হামলায় ১৪ ইসরায়েলিও মারা পড়েছে, তাদের একজন আধাসামরিক পুলিশের এক কর্মকর্তা, বাকিরা সবাই বেসামরিক।১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেওয়ার পর থেকে নির্মিত ১৪০টি বসতিতে ৬ লাখের বেশি ইহুদি বসবাস করছেন।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিংহভাগই এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে গণ্য করলেও, ইসরায়েল তাতে গা করছে না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য