Sunday, September 20, 2026
বাড়ি রাজ্য বুলডোজার হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ

বুলডোজার হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ

বুলডোজার হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ সেপ্টেম্বর : চুরি হয়ে যাওয়া একটি বুলডোজার উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মনগরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুল ডোজারটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরিবর্তন করে এবং এটি অন্যভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ বুল ডোজারটি ভাড়া নেওয়া শাসকদলীয় যুব মোর্চার তথাকথিত ধর্মনগরের এক সিকি নেতা তথা ঠিকাদার দীপন নাথের বিরুদ্ধে তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কালাছড়ার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস, তার নিজ নামে নিবন্ধিত TR 02 L1838 নম্বরের একটি বুলডোজার গত জানুয়ারি ধর্মনগর রাজবাড়ী মণ্ডপপাড়া এলাকার বাসিন্দা ঠিকাদার দীপন নাথের ঠিকাদারি সংস্থা ডি এন কনস্ট্রাকশনের কাছে মাসিক ভাড়ায় দেন।

কয়েক মাস চলার পর গত ২৬ অক্টোবর বুল ডোজারটির মালিক আব্দুল কুদ্দুসকে জানানো হয় যে, সাতচাঁদ-মনুবাজার এলাকার পার্থজিৎ চক্রবর্তীর বাড়ির কাছ থেকে তার বুল ডোজারটি চুরি হয়ে গেছে। এরপর ২৮ অক্টোবর মনুবাজার থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেন বুল ডোজারের মালিক। পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত খোঁজাখুঁজি করেও বুল ডোজারটির সন্ধান না পাওয়ায় পরবর্তীতে আদালতে শর্তসাপেক্ষে ফাইনাল রিপোর্ট পেশ করে বলে দাবি মালিকের। এরপরও বুল ডোজারটির সন্ধানে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন আব্দুল কুদ্দুস। অবশেষে শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে তিনি খবর পান, তার চুরি যাওয়া বুল ডোজারটি ধর্মনগর দক্ষিণ হুরুয়া এলাকার একটি সয়াবিন ফ্যাক্টরির আশপাশে রয়েছে। খবর পাওয়ার পর আব্দুল কুদ্দুস ধর্মনগর থানায় বিষয়টি জানান। পরে পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে বুল ডোজারটি উদ্ধার করে ধর্মনগর থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বুল ডোজারটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মালিকের দাবি, তাঁর বুল ডোজারের আসল রেজিস্ট্রেশন নম্বর TR 02 L 1838 অথচ উদ্ধার হওয়া বুল ডোজারটিতে বর্তমানে NL 04 DA 0049 নম্বর লেখা রয়েছে। আব্দুল কুদ্দুসের দাবি, বর্তমান রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গে বুল ডোজারটির চেসিস ইঞ্জিন নম্বরের মিল নেই। অন্যদিকে তাঁর নামে থাকা TR 02L1838 নম্বরের নথির সঙ্গে চেসিস ইঞ্জিন নম্বরের মিল রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুলডোজারটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরিবর্তন এবং মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

আব্দুল কুদ্দুসের আরও অভিযোগ, শুক্রবার রাতে যে স্থান থেকে বুলডোজারটি উদ্ধার করা হয়, সেখানে বুলডোজারটির আশপাশে ভাড়া নেওয়া ঠিকাদার দীপন নাথের দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল। এছাড়াও উদ্ধার হওয়া বুলডোজারটির বর্তমান রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি ডি এন কনস্ট্রাকশন-এর নামে করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন আব্দুল কুদ্দুস। তাঁর দাবি, বুলডোজারটি ভাড়া নেওয়া ঠিকাদার দীপন নাথই ওই সংস্থার মালিক। সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল কুদ্দুসের দাবি, চুরি যাওয়ার ঘটনার আড়ালে বুলডোজারটি অন্যভাবে হাতিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।এখন দেখার বিষয়, ধর্মনগর থানার পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করতে পারে কিনা।

 

 

 

 

 

 

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha