Wednesday, October 7, 2026
বাড়ি রাজ্য পানীয় জলের তীব্র সংকট গন্ডাছড়ার প্রত্যন্ত এলাকায়

পানীয় জলের তীব্র সংকট গন্ডাছড়ার প্রত্যন্ত এলাকায়

পানীয় জলের তীব্র সংকট গন্ডাছড়ার প্রত্যন্ত এলাকায়

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ অক্টোবর :  ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের ফলাফলে মুখে হাসি ফুটেছে রাজনৈতিক নেতাদের, অথচ ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করে স্থাপন করা ডিপ টিউব ওয়েল মুখ থুবড়ে পড়ে আছে!এটাই এডিসি-র উন্নয়নের নমুনা। এই দৃশ্য গন্ডাছড়া মহকুমা কালাঝাড়ি এডিসি ভিলেজের সাধু চন্দ্র পাড়ায়।

অভিযোগ, ভোট আসে ভোট যায়, প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলেও দিল্লিতে বৈঠক হয়েছে বলে দাবি করে নির্বাচনে বিতরণী পার হয়ে যান তথাকথিত জনদরদীরা। আর, এদিকে দুর্গম এলাকায় জলের অস্তিত্ব নেই। দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসার পরেও পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি দুর্গম গণ্ডাছড়া মহকুমার কালাঝাড়ি এডিসি ভিলেজের সাধু চন্দ্র পাড়ায়। বর্তমানে প্রায় ৬৫ টি রিয়াং পরিবারের বসবাস এই পাড়ায়। গণ্ডাছড়া মহকুমা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাড়াটির অধিকাংশ মানুষ জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ছড়া-নালা ও মাটির কুয়ার জল ব্যবহার করেই পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। গ্রামবাসীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৩ সালে পানীয় জল সম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত ওই টিউবওয়েলের জল পাড়ার মানুষ ব্যবহার করতে পারেননি। স্থানীয়দের দাবি, পাইপলাইন রাস্তা নির্মাণের সময় মাটি কাটার ফলে কেটে যায়। অভিযোগ, পাইপলাইনটি পর্যাপ্ত গভীরে স্থাপন না করায় সামান্য মাটি কাটাতেই সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর একাধিকবার পানীয় জল সম্পদ দপ্তরের কাছে পাইপলাইনটি মেরামতের দাবি জানানো হলেও এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে ডিপ টিউবওয়েল থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছর ধরে পুকুরের পাশে প্রায় ১০০ মিটার নিচে থাকা মাটির কুয়া থেকে জল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন অসহায় গিরিবাসী। ওই জল দিয়েই পানীয় জলের পাশাপাশি রান্না ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ চালাতে হচ্ছে। পুকুরের নোংরা জলেই শিশু থেকে বৃদ্ধ—সকলেই স্নান, কাপড় ধোয়া ও বাসনপত্র পরিষ্কার করছেন।বাসিন্দাদের অভিযোগ, দূষিত জল পান করার কারণে প্রায়ই মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো রোগও পাড়ায় লেগেই থাকে বলে তাদের দাবি। প্রতি বছর এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুও হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এমতাবস্থায় সাধু চন্দ্র পাড়ার বাসিন্দারা দ্রুত পাইপলাইন মেরামত করে ডিপ টিউবওয়েলের জল সরবরাহ চালু এবং পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় কবে নাগাদ পাইপলাইন সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha