Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যরাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সরকারকে ভুল ধরিয়ে দিতে চাইলেন...

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সরকারকে ভুল ধরিয়ে দিতে চাইলেন বিরোধী দলনেতা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ আগস্ট : রবিবার রাজধানীর সি আই টি ইউ রাজ্য কার্যালয়ে রক্তদান, দেহ দান এবং চক্ষুদানের মত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সি আই টি ইউ জিরানিয়া মহকুমা কমিটির পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

তাঁরা শিবিরের উদ্বোধন করে রক্তদান শিবির ঘুরে দেখেন। রক্তদাতাদের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের সামাজিক কর্মসূচিতে উৎসাহিত করেন। পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, বিগত বছর সাম্প্রদায়িক হিংসা লক্ষ্য করা গিয়েছিল জিরানিয়া স্থিত কৈতরবাড়ি এলাকায়। সেই এলাকার সংখ্যালঘু অংশের মানুষ আজকের রক্তদান শিবিরে বিশেষভাবে উপস্থিত রয়েছেন। অর্থাৎ তাদের সংখ্যাই মোট পাঁচজন। এটা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। রক্তের কোন ধর্ম নেই, জাত নেই, দেশ নেই এবং কোন সম্প্রদায় নেই।

 এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাদের শুভেচ্ছা জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। সরকারের সমালোচনা করে বলেন রাজ্যের হাসপাতাল গুলির মধ্যে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীর চরম সংকট চলছে। সরকারি মূল্যে রোগীদের ওষুধ মিলছে না। পূবর্তন সরকারের সময় এ বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। বর্তমানে এই পরিষেবা গুলি থেকে বঞ্চিত রাজ্যের মানুষ। শুধু তাই নয় এই সমস্যার কারণে রোগীদের ভর্তি রাখা হচ্ছে না হাসপাতালির মধ্যে। সুতরাং চিকিৎসা পরিষেবা উন্নয়নে যে দাবী সরকার করে চলেছে তা ভিত্তিহীন। এদিকে বর্তমান সরকারকে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজন বলে দাবি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

 তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্য করতে গিয়ে আরএসএস -এর গুনো গান করেছেন। কিন্তু এই আরএসএসের স্বাধীনতা আন্দোলনে কোন ভূমিকা ছিল না। তারা ভারতবর্ষের সংবিধানের বিরোধিতা করেছে, জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় পতাকা গ্রহণ করে নি। আরএসএস চেষ্টা করেছে দলিত বিরোধী সংবিধান তৈরি করার। পরে তারা ব্যর্থ হয়েছে। দেশে বর্তমানে আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকার গণতন্ত্রকে নিরস্ত্র করার জন্য এগোচ্ছে। তাই তাদের রুখে দিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, কর্মসংস্থান ও বস্ত্র সহ সার্বিক দাবি নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন পর চিকিৎসক নিয়োগ করার চেষ্টা করেছে সরকার। এটা ভালো উদ্যোগ হলেও ১০০ -তে ১৪ পাওয়া চিকিৎসক নিয়োগের বিষয় নিয়ে সরকার যোগ্যতা বিচার না করে চাকরি দিলে এটা বিপরীত হতে পারে। এগুলি সংশোধন করার দায়িত্ব সরকারকে অবশ্যই নিতে হবে। এদিকে ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসের দিন গান্ধীঘাট স্থিত গান্ধী বেদিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার বিষয় নিয়ে সরকারকে কামান দাগলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রতিবছর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য এই দায়িত্ব পান মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর যদি না আসতে পারে তাহলে কোন একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এবার যে ভুল হয়েছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অবাঞ্ছিত। তবে অপর দিক দিয়ে দেখা যায়, এটা তাদের জন্য স্বাভাবিক। কারণ ভারতীয় জনতা পার্টি ব্যস্ত ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, আর এস এস নিয়ে। তাদের কোন ভূমিকা ছিল না স্বাধীনতা দিবসে। বরং ব্রিটিশদের দালালি করে পেছন থেকে ছুরি মারার চেষ্টা করেছে স্বাধীনতা আন্দোলনের। এভাবেই সরকারের তীব্র সমালোচনার সাধ নেন বিরোধী দলনেতা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য