স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ আগস্ট : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্য ভিত্তিক মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর আসাম রাইফেল ময়দানে। সেখানে কুচ কাওয়াজ প্রদর্শন সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। কিন্তু এইদিন হাঁসফাঁস গরম আর প্রখর রৌদ্র থাকার কারনে অসুস্থ হয়ে পড়ে ১০ থেকে ১২ জন ছাত্র-ছাত্রী। দ্রুত তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় জিবি হাসপাতালে। খবর পেয়ে আহত ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবারের লোকজন ছুটে যায় জিবি হাসপাতালে।
বর্তমানে আহত ছাত্র-ছাত্রীরা জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে যতটা জানা গেছে তারা সকালবেলা সাতটার সময় আসাম রাইফেলস ময়দানে এসেছিল। অর্থাৎ বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সকাল ছয়টা নাগাদ। তারপর সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয়েছে। কিন্তু সকাল ১১ টা পর্যন্ত তাদের কোন ধরনের খাবার দেওয়া হয়নি। মাঠের মধ্যে শুধুমাত্র পানীয় জলের বন্দোবস্ত করে রেখেছিল প্রশাসন। ছাত্র ছাত্রীরা প্যারেড সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিবেশন করার পর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অপরদিকে ছিল প্রচন্ড রোদের তাপ। ধীরে ধীরে নিতেজ ঝরে পড়ে ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের মধ্যে রয়েছে অনেকে এনসিসি করা ছাত্রছাত্রী। ছাত্রছাত্রীরা জানান তারা সকাল থেকে কোন কিছুই খায়নি। বাড়িতে ফেরার সময় তাদের হাতে খাবার তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কেউ কেউ শ্বাসকষ্ট অনুভব করে, আবার কেউ কেউ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। সাথে সাথে তাদের জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে স্যালাইন এবং ওষুধের বন্দোবস্ত করা হয়।
এদিকে মহারানী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা জানান, তাদের খাবার দেওয়া হয়েছিল। তারা না খেয়ে খাবারগুলি গুছিয়ে রেখেছিল। তাই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রশ্ন হল শিক্ষিকা যদি সঠিক টাই দাবি করে থাকেন তাহলে কেন ছাত্রছাত্রীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ার পর তাদের খাবার খাওয়ানোর জন্য দায়িত্ব নিলেন না শিক্ষক শিক্ষিকারা। তারা তো ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক তুল্য। অভিভাবকরা যখন ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে কিংবা কোনো বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে পাঠায় তখন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপরেই ভরসা রাখেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো যেসব শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে ছেলেমেয়েদের তুলে দেয় তারা কতটা দায়িত্ববান সেটাই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

