স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩১ জুলাই : কদমতলা থানাধীন ইছাই লালছড়া গ্রামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ডাকাতি কাণ্ডে ফের বড় সাফল্য পেল পুলিশ। ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তারের পর আরও ৫ জন দূর্ধর্ষ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে কদমতলা থানার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, ধারালো অস্ত্র সহ নগদ টাকা ও লুট হওয়া অলঙ্কার। জানা যায় গত শনিবার গভীর রাতে ইছাই লালছড়ার বাসিন্দা সুব্রত কুমার এশের বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত হানা দেয়। লুট করে নিয়ে যায় নগদ অর্থ, স্বর্নালংকার ও দুটি মোবাইল ফোন।
এ ঘটনায় কদমতলা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩৩১(৪) ও ৩০৯(৪) ধারায় একটি মামলা (নং: ৪১) রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় কম্পু শুক্লা দাস (২৮) ও জমির আলী (৪৭) নামে দুই ব্যক্তিকে। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যে, চুরাইবাড়ি থানার খাদিমপাড়া এলাকা থেকে সেলিম উদ্দিন নামের এক দূর্ধর্ষ ডাকাতকে আটক করে পুলিশ। সেলিম জেরায় জানায়, এই ডাকাতি কাণ্ডে তার সঙ্গে আরও পাঁচজন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত অভিযানে নামে ত্রিপুরা পুলিশের বিশেষ দল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কমল দেববর্মা, ধর্মনগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বি. জরিন পুইয়া এবং কদমতলা থানার অফিসার ইনচার্জ জয়ন্ত দেবনাথ।
ধর্মনগর মহকুমা জুড়ে চালানো হয় সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান। এতে ধরা পড়ে ৫ দূর্ধর্ষ ডাকাত। ধৃতরা। ধৃতরা হলো পঙ্খি মিয়া, বাড়ি সুরসপুরে, আব্দুল কয়েস, বাড়ি কালাছড়ায়, রোশন আলী, বাড়ি দক্ষিণ কদমতলায়, এনাম উদ্দিন, বাড়ি ইছাই সোনাপুরে, রহিম আলী, বাড়ি পূর্ব ফুলবাড়ি এলাকায়। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে ১ টি দেশি বন্দুক, ৭ টি তাজা কার্তুজ, ছুরি, হেমার ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র, স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কার, ভারত ও বাংলাদেশের মোবাইল সিমকার্ড। এছাড়াও আগেই ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৭ টি আর্মি ও বিএসএফ-এর পোষাক, ৪ টি শার্ট, ১২ টি শাড়ি, বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও ধারালো অস্ত্র। ধৃতদের বৃহস্পতিবার পুলিশি রিমান্ড চেয়ে ধর্মনগরের জেলা ও দায়রা আদালতে তোলা হবে। পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানতে পারবে—এই চক্রের সঙ্গে রাজ্যের বা বহিঃরাজ্যের আরও কারা জড়িত। পুলিশ জানিয়েছে, এই ডাকাতদের অনেকেই বিভিন্ন অপরাধে পূর্বেও অভিযুক্ত ও পরিচিত মুখ।
পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই জানান, এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কঠোর হাতে দমন করা হবে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, এই চক্রের সাথে জড়িত আরও গ্রেপ্তার হতে পারে। এখন দেখার বিষয় পুলিশের তদন্তে আরও কি তথ্য বের হয়ে আসে।

