স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১১ জুলাই : রাজ্যের প্রায় দশ লক্ষাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। স্মার্ট মিটার নিয়ে গোটা রাজ্যের গ্রাহকরাই অসন্তুষ্ট। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের টাকা লুট করার যন্ত্র স্মার্ট মিটার বাতিল করার দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিলেন ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন। শুক্রবার সংগঠনের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে সংগঠনের কনভেনার সঞ্জয় চৌধুরী জানান, বিদ্যুৎ নিগম ভুল বুঝিয়ে, মিথ্যা কথা বলে এবং ভয় দেখিয়ে স্মার্ট মিটার বাড়ি বাড়ি লাগানোর কাজ করছে।
স্মার্ট মিটার গ্রাহকদের টাকা লুট করার একটা যন্ত্র। গত ৮ জুলাই রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেছেন, স্মার্ট মিটার এবং পুরনো ডিজিটাল মিটার বসাতে পারবে গ্রাহকরা। তাই মন্ত্রী উদ্দেশ্যে প্রশ্ন দুইটা মিটারই যদি সঠিক হয় তাহলে কেন স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রাহকদের উপর। স্মার্ট মিটার দ্বারা গ্রাহকদের যাতে পকেট কাটা যায় তার জন্য কর্পোরেটরদের লাভের রাস্তা খুঁজে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করেন ত্রিপুরার বিদ্যুৎ নিগম একটি লাভজনক সংস্থা ছিল। বর্তমানে এটা ক্ষতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। আগামী দু’বছরের মধ্যে স্মার্ট মিটার লাগিয়ে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ নিগম পুজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। সবচেয়ে উদ্বেগ জনক বিষয় হলো স্মার্ট মিটারের মূল্য গ্রাহকদের দিতে না হলেও পরবর্তী সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে কোন না কোন ভাবে আদায় করার রাস্তা করবে সরকার। তাই সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা জানানো হচ্ছে।
আরো জানান, পাওয়ার পার্সেস এডজাস্টমেন্টের নামে প্রায় ১১ শতাংশ সব বিদ্যুৎ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সাথে ফিউল চার্জ, ডিউটি চার্জসহ বিভিন্ন ভাবে বাড়তি টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। যেন মনে হয় গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা লুট করার একটা সুযোগ পেয়েছে এ সরকার। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, যারা স্মার্ট মিটার এখনো লাগায়নি তাদের যাতে স্মার্ট মিটার লাগাতে না হয় এবং যারা স্মার্ট মিটার লাগিয়েছে তারা যাতে স্মার্ট মিটার থেকে রেহাই পেতে পারে তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করেছে ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা এই স্মার্ট মিটার থেকে মুক্তি পাবে। কর্তৃপক্ষ আইন কানুন মেনেই গ্রাহকদের জন্য এই বিকল্প ব্যবস্থা করেছে বলে জানান। পাশাপাশি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার স্মার্ট মিটার লাগানোর জন্য একটি স্কিমের মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন। এটা গ্রাহকদের জন্য কোন আইন নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

