স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১১ জুলাই : ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিগম স্মার্ট মিটার স্থাপনের মাধ্যমে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শুক্রবার ভুতুরিয়া স্থিত বিদ্যুৎ নিগম অফিসে ডেমু সেশন দেখানোর পর সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান বিদ্যুৎ নিগমের এমডি বিশ্বজিৎ বাসু। তিনি জানান, স্মার্ট মিটার হল পরবর্তী প্রজন্মের বিদ্যুৎ মিটার, যা যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এই বিজ্ঞান ভিত্তিক স্মার্ট মিটার দ্বারা শুধুমাত্র গ্রাহকদের লাভ হবে। ক্ষতির কোন দিক স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে নেই।
রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে ১০ লক্ষ ছাব্বিশ হাজার। বিদ্যুৎ নিগম সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সমস্ত মন্ত্রীদের বাড়িতে এবং তাদের অফিস কক্ষে স্মার্ট মিটার বসানোর। একই সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরে মধ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর। পাশাপাশি মানুষকে আরও বেশি সচেতন করতে বিদ্যুৎ নিগমের ২ হাজার ৭০০ জন কর্মীর বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর। তিনি স্মার্ট মিটার প্রসঙ্গে গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, স্মার্ট মিটার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এবং গ্রাহক বান্ধব। এই মিটার ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত বিল আসার কোন আশঙ্কা নেই। বরং এই মিটার ব্যবহারের ফলে গ্রাহক অনেক বেশি সচেতন এবং অনেক বেশি সুবিধা ভোগ করতে পারবে। গ্রাহকদের বাড়িতে ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্মার্ট মিটার বসানো হচ্ছে। সঠিক মিটার রিডিং এর ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তৈরি বিলের সুবিধা । গ্রাহক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন তার ভিত্তিতে সঠিক ভাবে বিদ্যুতের বিল দেবেন।
মিটার রিডারদের মাধ্যমে বাড়িতে গিয়ে বিল করার দিন শেষ। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বাড়ির দরজা বন্ধ থাকার ফলে ডোর লক বিল কিংবা সারপ্রাইজ বিল অথবা আনুমানিক বিলের কোন সম্ভাবনাও নেই। স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকরা দৈনন্দিন বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য নিজের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কিংবা অনলাইন পোর্টালে দেখতে পারবেন। স্মার্ট মিটার ব্যবহারের ফলে গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর অতি দ্রুত বিদ্যুৎ নিগমের কাছে পৌঁছে যাবে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। এমডি আরো জানান, কেউ যাতে বিভ্রান্তে কান না দেয়। বিদ্যুৎ নিগম গ্রাহকদের স্বার্থেই এই ব্যবস্থাপনা চালু করেছে।

