স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ৭ জুলাই : মহারাষ্ট্র সরকার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে বৃহৎমুম্বই পুরনগিমকে, অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে সমুদ্রনগরী মুম্বইয়ের সমস্ত ‘কবুতরখানা’ (যেখানে পায়রাদের খাবার দেওয়া হয়)। হঠাৎ এমন নির্দেশিকা কেন? নেপথ্যে মহামারীর শঙ্কা। পায়রার বিষ্ঠা, এমনকী পালক থেকে মারণ ব্যাধী ছড়ানোর আশঙ্কায় তড়িঘড়ি পুরনিগমের কর্তাদের শহরের সমস্ত ‘কবুতরখানা’ বন্ধ করতে বলেছে রাজ্য সরকার।
গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পুর প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত শিব সেনা নেতা মণীষ কায়ান্দে পায়রা নিয়ে আশঙ্কার কথা ব্যক্তি করেন। তিনি বলেন, “যে এলাকায় কবুতর খানা রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। পায়রার বিষ্ঠা এবং পালক থেকে রোগ ছড়াচ্ছে। ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। ফুসফুসের রোগ হচ্ছে তাঁদের।” পুরনিগমের অন্যতম সদস্য বিজেপি নেত্রী চিত্রা ওয়াঘ দাবি করেন, পায়রার বিষ্টা থেকে সংক্রমিত হয়ে ফুসফুসের রোগে মৃত্যু হয়েছে তাঁর কাকিমার।
বিধানসভায় উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের অনুপস্থিতিতে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী উদয় সামান্ত জানান, বাণিজ্যনগরীতে মোট একান্নটি ‘কবুতরখানা’ রয়েছে। উদয় নির্দেশ দেন, “কবুতরখানা নিয়ে এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে পুরনিগম। বিএমসিকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, অবিলম্বে ‘কবুতরখানা’গুলি বন্ধের কাজ শুরু করতে হবে।” পাশাপাশি ‘কবুতরখানা’র বিপদ নিয়ে সচেতনতা প্রচারে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। দাদরে একটি ‘কবুতরখানা’ দু’দিন আগে বন্ধ হয়েও ফের চালু হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
উপমুখ্যমন্ত্রী শিণ্ডে জানান, সান্তাক্রুজ পূর্ব এবং দৌলত নগর এবং সান্তাক্রুজ পশ্চিমের কবুতরখানাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিএমসি ওই জায়গাগুলিতে একটি ট্র্যাফিক আইল্যান্ড এবং মিয়াওয়াকি বাগান তৈরি করেছে। মুম্বই মানে সমুদ্র-ইন্ডিয়া গেট-উড়ন্ত পায়রা! কিন্তু শান্তির দূতই আশান্তি বাড়াচ্ছে! মারণ ব্যাধীর শঙ্কায় মুছে যাবে বলিউডের শহরের অন্যতম সিগনেচার?

