বাড়িবিশ্ব সংবাদইরান যুদ্ধের পর হরমুজ পেরিয়ে জাপানে পৌঁছল প্রথম তেলবাহী ট্যাঙ্কার

ইরান যুদ্ধের পর হরমুজ পেরিয়ে জাপানে পৌঁছল প্রথম তেলবাহী ট্যাঙ্কার

টোকিও, ২৬ মে (হি. স.) : ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর প্রথম বার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে জাপানে পৌঁছল একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার। সোমবার নিরাপদে জাপানের আইচি প্রদেশে পৌঁছয় ওই জাহাজ। যুদ্ধের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে চলাচল ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

জানা গেছে , জাপানের প্রধান তেল পরিশোধন সংস্থা ইডেমিতসু কোসান কো-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন এই ট্যাঙ্কারে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। যা জাপানের দৈনিক অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশের সমান বলে মনে করা হচ্ছে।

জাহাজটির নাম ‘ইডেমিত্সু মারু’। প্যানামার পতাকাবাহী ৩০০ মিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই ট্যাঙ্কার ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। তখনও আমেরিকা ও ইজরায়েলের তরফে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়নি। পরে সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে মার্চের শুরুতে রওনা দিলেও, তত দিনে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে আবুধাবির উপকূলের কাছে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয় জাহাজটিকে। অবশেষে ২৮ এপ্রিল হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে এটি যাত্রা শুরু করে।

জানা গিয়েছে, এই যাত্রাপথে ইরানকে কোনও ধরনের ‘ট্রানজিট ফি’ বা পারগমন কর দিতে হয়নি জাহাজটিকে। পারস্য উপসাগর ছেড়ে ভারতীয় সমুদ্রসীমা এবং পরে মালাক্কা প্রণালী হয়ে শেষ পর্যন্ত জাপানে পৌঁছয় ট্যাঙ্কারটি।

জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “এই জাহাজের নিরাপদে জাপানে পৌঁছনো দেশের স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক খবর।” তিনি জানান, জাপান ইরানের কাছে আবেদন জানিয়েছিল যাতে সব দেশের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ও বাধাহীন যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়।

তবে পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি বলেও সতর্ক করেছেন কিহারা। তাঁর কথায়, বর্তমানে পারস্য উপসাগর এলাকায় জাপানের আরও ৩৯টি জাহাজ আটকে রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে জাপানি নাবিকরাও রয়েছেন। তিনি বলেন, “সমস্ত জাহাজ যাতে দ্রুত এই প্রণালী পেরোতে পারে, সে জন্য কূটনৈতিক স্তরে আমরা লাগাতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

এ দিকে, জাপানের আর এক বৃহৎ তেল সংস্থা এনিওস হোল্ডিংস ইনকর্পোরেটেডের একটি ট্যাঙ্কারও মে মাসের মাঝামাঝি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে জানা গিয়েছে। সেটিও মে মাসের শেষ অথবা জুনের শুরুতে জাপানে পৌঁছতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জাপান তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশের জন্য পারস্য উপসাগরীয় তেলের উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় দেশটি তার কৌশলগত জরুরি পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকেও বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য