স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩ জুন : চার বছর পূর্বে এন.এইচ.ডি.সি.এল-এর তত্বাবধানে একটি নির্মাণ সংস্থা ২০৮ নং জাতীয় সড়কের দক্ষিন মানিক ভান্ডার পঞ্চায়েতের এরার পাড় ধলাই নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে। সেতু নির্মাণ করার সময় এরার পাড় গ্রামের বাসিন্দারা এক সাথে মিলিত হয়ে সেতু নির্মাণের কাজে বাধা দেন। সেই সময় গ্রামবাসীদের বক্তব্য ছিল নির্মাণ সংস্থা অবৈজ্ঞানিক ভাবে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করছে। সেতু নির্মাণ যেভাবে করছে এতে তাদের গ্রাম নদী গর্ভে চলে যাবে। কিন্তু গ্রামবাসীদের বক্তব্যে কর্ণপাত করে নি নির্মাণ সংস্থা।
গ্রামবাসীরা এই নিয়ে ধলাই জেলার জেলা শাসক থেকে শুরু করে মহকুমা শাসকের নিকটও লিখিত ভাবে অভিযোগ জানান। জেলা শাসক ও মহকুমা শাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণ সংস্থার আধিকারিকদের সাথে কথা বলেন। সেতু নির্মাণের ফলে গ্রামবাসীদের যেন কোন ক্ষতি না হয় সেই দিকে নজর দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্মাণ সংস্থা তাদের মতো করে সেতু নির্মাণ করে। এই নিয়ে গ্রামবাসীরা সড়ক অবরোধও করে। তখন গ্রামবাসীদের আশ্বাস দেওয়া হয় সেতু নির্মাণের ফলে গ্রামবাসীদের কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের বন্যায় বহু পরিবারের বাড়ি ঘর নদীর গর্ভে চলে যায়। বর্তমানে গ্রামে আর ১০ টি পরিবার রয়েছে। তাদের জমি বাড়ি ঘর ক্রমশ নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।
গ্রামবাসিদের অভিযোগ অবৈজ্ঞানিক ভাবে ধলাই নদীর উপর সেতু নির্মাণের ফলে বর্তমানে এড়ারপাড় গ্রামের বাড়ি ঘর সহ কৃষি জমি ক্রমশ নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। জেলা শাসক ও মহকুমা শাসকের কাছ থেকে শুধুই আশ্বাস মিলেছে। কাজের কাজ কিছুই হয় নি। এলাকার বিধায়ক মনোজ কান্তি দেবকেও সমস্যার বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয় নি। প্রশাসন অবিলম্বে ধলাই নদীর ভাঙ্গন রোধ করে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সহসাই এড়ারপাড় গ্রামের বাকি পরিবার গুলি উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। তখন এলাকার লোকজন বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবে। আর সেই আন্দোলন সামাল দিতে পারবে না প্রশাসন। এমনটা দাবি এলাকাবাসিদের। তাই এলাকাবাসিদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টির প্রতি নজর দিক। এখন দেখার প্রশাসন কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

