স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২২ মার্চ : রাজ্যের অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়ে সরকার সম্পূর্ণ অসংবেদনশীল এবং বৈরী মনোভাব গ্রহণ নিয়ে চলেছে। অনিমিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ করতে সরকার কোন বক্তব্যও দিতে রাজি নয়। সরকার আগামী মে মাসের মধ্যে অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়ে যদি কোনরকম সদর্থক ভূমিকা না নেয় তাহলে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আগরতলা শহরের রাজপথ দখল করবে অনিয়মিত কর্মচারীরা। তাদের সাথে থাকবে তাদের পরিবার ও সমস্ত অংশে মানুষ। শনিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারীর মঞ্চের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান সংগঠনের কনভেনার পুরুষোত্তম রায় বর্মন।
তিনি বলেন, ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের অধীনে বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৪০ হাজার অনিয়মিত কর্মচারী গত কয়েক দশক ধরে কর্মরত রয়েছেন। তাদের নিয়মিতকরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে তারা। পাশাপাশি আংশিক সময়ের কর্মীদের নিয়মিতকরণের দাবি রয়েছে। শনিবার রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে মুখ্য সচিবের অফিস মারফত ডেপুটেশন প্রদান করে দাবি করা হয়েছে যারা অনিয়মিত কর্মচারী রয়েছেন তাদের অবিলম্বে নিয়মিতকরণ করার জন্য, অপরদিকে যারা অবসরে গিয়েছেন তাদের এককালীন ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করার জন্য, অনিয়মিত কর্মচারীদের ১০ বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর নিয়মিতকরন করার নিয়ম চালু করা। তিনি আরো জানান, ২০১৮ সালের পর একজন অনিয়মিত কর্মচারীকেও নিয়মিতকরন করা হয়নি। বরং একটি নির্দেশিকা জারি করে পূর্বতন সরকারের আমলের নির্দেশিকা পর্যন্ত বাতিল করে দিয়েছে।
ফলে বর্তমানে রাজ্যের অনিয়মিত কর্মচারীরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। স্বল্প পারিশ্রমিকে তারা সংসার পরিচালনা করতে পারছেন না। আর সম কাজে সমবেতন না দেওয়া আইনত অপরাধ। তিনি আরো বলেন গত বিধানসভা অধিবেশনে দেখা গেছে বিরোধী দলের বিধায়ক গোপাল রায় অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিত পূরণ করার জন্য মুখ খুলে ছিলেন। অথচ তার কথার কোন জবাব দেননি সরকার। এছাড়াও গত কয়েকদিন আগে রাজ্যের মুখ্য সচিবের সাথে দেখা করার জন্য সময়সীমা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা করার সুযোগ দেননি তিনি। শুক্রবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করেছেন, সেই বাজেটও অনিয়মিত কর্মচারীদের জন্য কোন উল্লেখ নেই। যা অনিয়মিত কর্মচারীদের অত্যন্ত হতাশ করেছে বলে জানান তিনি।

