Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ আহত প্রায় ২০

ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ আহত প্রায় ২০

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২ জানুয়ারি : একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ আহত প্রায় ২০ জন ছাত্র। ঘটনা ঋষ্যমুখ বাঁশ পদুয়া জহর নবোদয় বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ে এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় এবং অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে। স্কুলের অনুমতি নিয়ে এই দিন রাতে স্কুল প্রাঙ্গনে চলছিল নতুন বছর আগমন উপলক্ষে অনুষ্ঠান এবং পিকনিক। স্কুল থেকে সময় বেধে দেওয়া হয়েছিল সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত সাড়ে নয়টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে।

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর শিক্ষক শিক্ষিকারা অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলায় বাধে বিপত্তি। দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্ররা তা মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য অনুষ্ঠান আরো কিছুক্ষণ সময় চলবে। এই নিয়ে শিক্ষক এবং দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। শিক্ষকদের পাত্তা না দিয়ে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্ররা অনুষ্ঠান আরো কিছু জারি রাখার জন্য একাদশ শ্রেণীর ছাত্রদের উস্কানি দিতে থাকে। কিন্তু একাদশ শ্রেণীর ছাত্ররা শুনেনি, এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে দ্ধাদশ শ্রেনির ছাত্ররা। তবে ওই দিন রাতে আর তেমন কিছু হয় নি। দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্ররা সেদিন রাতে অন্যান্য ক্লাসের ছাত্রদের হুলিয়া জারি করে আসে ডাইনিং হল থেকে আনা টেবিল দিয়ে যে স্টেজ বানানো হয়েছে অনুষ্ঠানের জন্য, সে টেবিলগুলি যাতে পরের দিন সকালে কোন ছাত্ররা না নিয়ে যায়। এই টেবিলগুলো শিক্ষক শিক্ষিকারা ডাইনিং হলে নিয়ে যাবে বলে হুলিয়া জারি করে। কিন্তু এই অনুষ্ঠানের দায়িত্বে যখন একাদশ শ্রেণীর ছাত্ররাই ছিল, সে অনুযায়ী ডাইনিং হলের টেবিলগুলি পরের দিন সকালে একাদশ শ্রেণির ছাত্ররা নিয়ে যায়।

 আর এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্ররা। একাদশ শ্রেণির ছাত্ররা ডাইনিং হলে বসে ভাত খাচ্ছিল সেই সময় কিছু দ্ধাদশ শ্রেণীর পড়ুয়া ছাত্ররা ডাইনিং হলের ভিতরে গিয়ে দরজাতে খিল দিয়ে বাঁশ ও পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে একাদশ শ্রেণির ছাত্রদেরকে । এতে একাদশ শ্রেণী ২০ জন ছাত্র আহত হয়। ঘটনার রেশ চলে মঙ্গলবার পর্যন্ত। এই খবর প্রকাশ হতেই অভিভাবকরা স্কুলে ছুটে আসে। উত্তেজনা নিরসনে শিক্ষকরা অভিভাবকদের সাথে বৈঠক করে আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করে। পাশাপাশি এই ঘটনার সম্পর্কে জেলাশাসককে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানা যায়। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিভাবকরা জানান, যারা আক্রমণ সংগঠিত করেছে তাদের শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে স্কুলে রাতের বেলা পিকনিক করার অনুমতি কিভাবে দিল শিক্ষক শিক্ষিকারা। কোন নাইট ক্লাবে পরিণত করতে চাইছে স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষিকারা ? আর এখন যখন এই ধরনের অভীতিকর ঘটনাটি স্কুলকে কালিমা লিপ্ত করল তখন আপোষ মীমাংসা করে ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে চাইছে স্কুলের দায়িত্ব জ্ঞানহীন শিক্ষক শিক্ষিকারা। এমনটাই মনে করছে স্থানীয়রা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য