স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৪ ডিসেম্বর : মারধর করার ঘটনার বিবরণ জানিয়ে মামলা করার ১১ দিনের মাথায় তদন্ত শুরু করল পুলিশ। ঘটনা বিশালগড় মহকুমার অন্তর্গত গোকুলনগর পালপাড়ার এক নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম বিপুল দাস। অভিযোগ, গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগে বড় ভাই, বৌদি এবং তাদের ছেলে মেরে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে ছোট ভাই বিপুল দাসকে।
বিশালগড় মহকুমার গোকুলনগর পালপাড়া এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিপুল দাস আজ থেকে প্রায় এগারো দিন আগে গাছ কেটে বিক্রি করেছিলেন। বিপুল দাস জানিয়েছেন এটা তার পৈতৃক সম্পত্তি। তার পরিবারটি চলছে অভাব অনটনের মধ্য দিয়েই।
এই অভাবের সংসার চালাতে গিয়ে গাছ কেটে বিক্রি করেছেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দাদা বৌদিকে জিজ্ঞাসা না করে কেন তিনি গাছ কেটে বিক্রি করেছেন এই অভিযোগে দাদা বিষ্ণুদাস, বৌদি রেখা দাস, এবং তাদের ছেলে অচিন্ত্য দাস প্রচন্ডভাবে মারধর করেছেন বিপুল দাসকে। মাথা সহ সারা শরীরে আক্রমণ করে তারা। এমনকি আঘাত করা হয় পুরুষাঙ্গেও। ছোট ভাই বিপুল দাস জানিয়েছেন যেহেতু তার পৈতৃক সম্পত্তি গাছ কেটে তিনি বিক্রি করতেই পারেন। কারণ এর আগে দাদা বৌদিরাও ছোট ভাই বিপুল দাসকে কিছু না জানিয়ে গাছ কেটে বিক্রি করেছেন।
এদিকে বিপুল দাসের স্ত্রী জানিয়েছেন গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি তার স্বামীকে প্রথমে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয় হাঁপানিয়া হাসপাতালে। কিন্তু অর্থের অভাবের কারণে তিনি হাঁপানিয়া হাসপাতালে যেতে চাননি। তখন তিনি তার আহত স্বামী বিপুল দাসকে সঙ্গে নিয়ে বিশালগড় থানায় অভিযুক্ত বিষ্ণুদাস, রেখা দাস এবং অচিন্ত্য দাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর তিনি তার আহত স্বামীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে চলে যান জিবি হাসপাতালে। জিবি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেরে বাড়িতে ফিরে আসার পরেও আজ পর্যন্ত স্বামী বিপুল দাস বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। একপ্রকার ভাবে প্রায় পঙ্গু হয়ে তিনি এখন বিছানায়।
দীর্ঘ প্রায় এগারো দিন পর তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পুলিশ নাকি তাদেরকে জানিয়েছে নাম নিয়ে বিভ্রান্তি থাকার কারণে তারা জায়গাটা খুঁজে বের করতে পারেননি। এবারে প্রশ্ন হচ্ছে পুলিশের তদন্তের এই যদি হয় ভরঙ, তাহলে সাধারণ মানুষ আইনের সাহায্য চাওয়ার জন্য যাবে কোথায়।

